টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
বসন্তের মাতাল হাওয়ায় টাঙ্গাইল জেলায় ধুলা উড়ে, শীতের হিমেল স্পর্শ বিদায়ের সুর তোলে। ফাল্গুনের রঙিন আবেশ জানিয়ে দিচ্ছে ঋতু বদলের কথা। সামনে চৈত্র-বৈশাখ। গাছে গাছে নতুন পাতার আগমনী বার্তা, তার আগে ঝরে পড়া শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনি। যে পাখিরা কদিন আগেও সবুজ পাতার আড়ালে বাসা বুনেছিল, তারা এখন পত্রহীন ডালে এসে যেন বিস্মিত হয়। তবু প্রকৃতির নিয়মে বৃক্ষ পুরোনো পাতা ঝরিয়ে নতুন কিশলয়ে সেজে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পত্রবিহীন ডালে ছায়া কমলেও প্রত্যাশা কমে না। অচিরেই সবুজ পত্রমঞ্জরী সাজিয়ে প্রকৃতি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর গানের সুর যেন ভেসে আসে, ‘ছিন্ন পাতায় সাজাই তরনী একা একা করি খেলা’। ফাল্গুনের রোদেলা দুপুরে হালকা বাতাসে মন আনমনা হয়ে যায়। কখনো অলস দুপুর ঘুমের আমেজে সন্ধ্যা আর সকালের বিভ্রমও জাগে। বসন্ত এমনই এক মায়াবী সময়।
গাছের পাতা শুধু সৌন্দর্য নয়, জীবনেরও অংশ। উদ্ভিদবিজ্ঞানে যাকে পত্র বলা হয়, সেটিই সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে। প্রতিটি বৃক্ষের পাতার ধরন আলাদা হলেও কাজ এক—প্রাণের ধারক হওয়া। নতুন পাতার অপেক্ষায় পাখিরা বারবার ফিরে আসে প্রিয় গাছে। ফাগুন শেষে নবপত্রে সেজে উঠবে বৃক্ষরাজি, সবুজে ভরবে চারদিক।
বাগানে ফুলের পাপড়ি মেলে বসন্তের নাচন শুরু হয়েছে। গোলাপ, গাঁদাসহ নানা ফুলে রঙিন প্রকৃতি। তরুণ-তরুণীদের মনে ফুরফুরে হাওয়া, মধ্যবয়সীরাও কম যান না। দাম কিছুটা বেশি হলেও খোঁপায় গাঁদা না থাকলে যেন বসন্ত অসম্পূর্ণ।
এদিকে পরিবেশবিদরা বলছেন, পৃথিবী উষ্ণ হচ্ছে, সামনে দিনগুলো আরও উত্তপ্ত হতে পারে। তবে মাঠের কৃষক এখনো বসন্তের চেনা রূপই দেখছেন। বোরো চারা রোপণের মৌসুম শেষের পথে। বাউরি বাতাস বয়ে গেলে চৈত্রের রুক্ষ দিনের আভাস মেলে। এভাবেই ফাল্গুন তার রঙ, রোদ আর মায়া নিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে বয়ে যায়।











