সখিপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের সখীপুর ও বাসাইল উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশাই নদে সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ। দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ও নৌকা।
সখীপুর উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত ও বাসাইল উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিনই মানুষকে নদ পারাপার হতে হয়। কিন্তু স্থায়ী সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের তৈরি সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধি পেলে এই সাঁকো প্রায়ই ডুবে যায়, তখন নৌকাই একমাত্র ভরসা। বর্তমানে ব্যবহৃত বাঁশের সাঁকোটিও অত্যন্ত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।
বাসাইল উপজেলার সুন্যা বাজারসংলগ্ন বংশাই নদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে বাঁশ ও প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে তৈরি সাঁকো ব্যবহার করে পারাপার চলছে। স্থানীয় মাঝি রতন তরণী দাসের পরিবার এই পারাপারের ব্যবস্থা করে আসছেন বলে জানা গেছে।
সুন্যা বাজার এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি আলিম মাদ্রাসা এবং কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ দুই উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করে চলাচল করছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, বর্ষাকালে সাঁকো দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর ও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। অনেক সময় পানি বেড়ে গেলে স্কুলে যেতেই সমস্যা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারাও জানান, বর্ষাকালে নদের ওপারের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে কৃষিপণ্য ও নিত্যপণ্য পরিবহনেও ব্যাপক ভোগান্তি হয়।
স্থানীয়রা মনে করছেন, বাসাইল উপজেলার সুন্যা বাজারসংলগ্ন বংশাই নদে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে সখীপুর ও বাসাইল উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হবে।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য অবগত রয়েছেন এবং সেতু নির্মাণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা চলছে।











