খবরবাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা/পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদকদ্রব্যের অবৈধ পাচার প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মাদক দমনে সমঝোতা স্মারক কার্যকর ভূমিকা রাখবে আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) সীমান্ত নিরাপত্তা ও সমাজকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইটে নতুন সম্ভাবনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশের সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মানবিক সংকটের বিষয় উত্থাপন বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথি (ফ্যামিলি ট্রি) না থাকায় অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশটির কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (CNIC) পেতে জটিলতার মুখে পড়ছেন। এর ফলে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ সমস্যাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
‘সেফ সিটি’ প্রকল্পে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পাকিস্তানের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশটির ৪০টিরও বেশি শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য একটি মডেল।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের তৎকালীন সিনিয়র সচিব (বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব) ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির সেফ সিটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের শহরগুলোকে আরও নিরাপদ করতে পাকিস্তানের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সহযোগিতা চাওয়া হয়। রোহিঙ্গা সংকটে পাকিস্তানের সমর্থন প্রত্যাশা রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যৌথভাবে কাজ করেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানবিক সংকটে দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের জোরালো সমর্থন কামনা করে বলেন, মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে ফিরিয়ে নেয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ পাকিস্তানের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ বৈঠকের শেষে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











