খবরবাংলা ডেস্ক :
দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের দায়িত্ব ও কর্মমূল্যায়নের জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে শীর্ষ নির্বাহীদের কাজের মূল্যায়নে ১০০ নম্বরের একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, মূলধন সক্ষমতা, সুশাসন, আর্থিক স্থায়িত্বসহ ব্যাংক পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে খারাপ কর্মদক্ষতা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মেয়াদ বাড়ানো নাও হতে পারে। এমনকি প্রয়োজন হলে তাকে অপসারণের জন্য পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশও দিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে আগামী এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের জন্য কর্মসম্পাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এসব লক্ষ্য তিন বছর অথবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্ধারণ করা হবে। প্রতি ছয় মাস পরপর লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে জানাতে হবে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের বেতন-ভাতা, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণেও এই মূল্যায়ন কাঠামো ব্যবহার করতে হবে। পাঁচটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মোট ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে তহবিল সুরক্ষা ও তারল্য পরিস্থিতিতে ২৫, সম্পদের গুণগত মানে ২৫, সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে ২৫, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, গ্রাহকসেবা ও বাজার আচরণে ১৫ এবং মুনাফা অর্জনে ১০ নম্বর রাখা হয়েছে।
মূল্যায়নে ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেলে মানসম্মত হিসেবে বিবেচিত হবেন সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ৬৫ থেকে ৭৪ নম্বর পেলে উন্নতির প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আর ৬৫-এর নিচে নম্বর পেলে অবিলম্বে উন্নতির প্রয়োজন হিসেবে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নোটিশ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কর্মদক্ষতা যাচাইয়ে ন্যূনতম ৩০টি কর্মসম্পাদন সূচক নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে নির্ধারিত লক্ষ্যের ৫০ শতাংশের কম অর্জন হলে কোনো নম্বর পাওয়া যাবে না। ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অর্জন হলে আনুপাতিক হারে নম্বর দেওয়া হবে এবং শতভাগ লক্ষ্য অর্জিত হলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সূচকের মধ্যে রয়েছে আমানত-ঋণ অনুপাত, মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত, প্রকৃত খেলাপি ঋণের অনুপাত, বড় ঋণ ও শীর্ষ ঋণগ্রহীতার কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি, খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণ আদায় এবং ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষি, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার। ফলে নতুন নীতিমালায় খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনাকে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কর্মমূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











