খবরবাংলা ডেস্ক :
শিল্প-কারখানায় মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক মো. ফজলুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় দেশের ২১টি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রায় তিন ঘণ্টার সভা শেষে ব্যবসায়ী নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ফজলুল হক বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ কমবেশি ভোগান্তিতে ছিলেন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের আগে যে পরিস্থিতি ছিল, মঙ্গলবার রাত থেকে সেই অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।
সভায় আগামী দিনে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে চলমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি শিল্পের বিকাশ ও বিনিয়োগের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়েও ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছেন বলে জানান ফজলুল হক।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, সভায় কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সভায় উপস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সরকার প্রাথমিকভাবে তিনটি এবং পরে আরও দুটি—মোট পাঁচটি ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট স্থাপনের কাজ করছে। ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় ইউনিটটির কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে, যাতে গ্যাস সংকট কমানো যায়।
মধ্যমেয়াদে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভাসমান গ্যাস ইউনিটের সঙ্গে স্থলভিত্তিক টার্মিনাল ও গ্যাসলাইন স্থাপনসহ বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করেই দেশকে এগিয়ে নেবে। শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
তিনি আরও বলেন, আগের সময়ে তৈরি হওয়া পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলোর পূর্ণাঙ্গ সমাধান এক দিনে, এক মাসে বা এক বছরে সম্ভব নয়। তবে সরকারের দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও রয়েছে। সভায় সেই পরিকল্পনাই তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











