খবরবাংলা ডেস্ক :
রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগে ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে এটি স্বাভাবিক বলে মনে হলেও সব সময় বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে রাতে বারবার প্রস্রাবের অন্যতম কারণ হতে পারে প্রোস্টেটের আকার বেড়ে যাওয়া।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়াকে ‘নকটিউরিয়া’ বলা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থাকে বলা হয় বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া। এটি ক্যানসার নয়, তবে প্রোস্টেট বড় হয়ে মূত্রনালিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এর ফলে প্রস্রাব করতে বেশি সময় লাগা, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি ঘুমানোর আগে বেশি পানি না খেলেও রাতে একাধিকবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙতে পারে।
যেসব লক্ষণ খেয়াল করবেন
রাতে বারবার প্রস্রাবের পাশাপাশি নিচের লক্ষণগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন—
- প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া
- প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া
- প্রস্রাবের ধারা থেমে থেমে আসা
- প্রস্রাবের সময় চাপ দিতে হওয়া
- প্রস্রাব শেষে ফোঁটা ফোঁটা পড়া
- প্রস্রাবের পরও মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়ার অনুভূতি
তবে রাতে বারবার প্রস্রাব হলেই যে প্রোস্টেটের সমস্যা রয়েছে, তা নয়। অতিরিক্ত পানি পান, চা-কফি বা মদ্যপান, মূত্রনালির সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, অতিসক্রিয় মূত্রথলি, কিছু ওষুধ কিংবা রাতে অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি হওয়ার কারণেও এমনটা হতে পারে।
আবার অনেক সময় অন্য কোনো কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর প্রস্রাব করতে যাওয়ার অভ্যাসও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রস্রাবের বেগ ঘুম ভাঙার মূল কারণ নাও হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিয়মিত রাতে প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভাঙার পাশাপাশি প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, প্রস্রাব শুরুতে সমস্যা, অতিরিক্ত বেগ, প্রস্রাব শেষে ফোঁটা পড়া বা মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রয়োজনে চিকিৎসক প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসাউন্ড, প্রস্রাবের প্রবাহ পরীক্ষা এবং প্রোস্টেটের মূল্যায়ন করতে পারেন। একই ধরনের উপসর্গের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, তাই নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











