খবরবাংলা ডেস্ক :
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও কি সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরজুড়ে ক্লান্তি অনুভব করেন? কাজে মন বসে না, সামান্য হাঁটাহাঁটি কিংবা ঘরের ছোটখাটো কাজ করতেও হাঁপিয়ে ওঠেন? অনেকেই এমন সমস্যাকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক লক্ষণ মনে করেন। তবে এর পেছনে থাকতে পারে আর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যা।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থ্রাইটিসের কারণে শুধু জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব ও শক্ত হয়ে যাওয়াই নয়, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে। এমনকি এক রাত ভালো ঘুমানোর পরও এ ক্লান্তি দূর নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, জয়েন্টের ব্যথা, ঘুমের ব্যাঘাত এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার কারণে এ সমস্যা তৈরি হতে পারে। সময়ের সঙ্গে তা দৈনন্দিন কাজকর্ম, চলাফেরা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতের আইএসআইসি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের রিউমাটোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক ডা. শ্রী রাম গর্গের মতে, আর্থ্রাইটিসজনিত ক্লান্তি কমাতে শুধু বেশি ঘুমালেই হবে না। প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনাও জরুরি।
### আর্থ্রাইটিসে কেন সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে?
প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হতে পারে, যা সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভবের অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে, জয়েন্টের ব্যথায় রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থাকলেও শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় না। ব্যথার ভয়ে অনেকে হাঁটাচলা ও ব্যায়াম কমিয়ে দেন। এতে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যায়। ফলে সামান্য কাজ করতেও বেশি শক্তি খরচ হয়। এভাবে ব্যথা, কম চলাফেরা ও পেশির দুর্বলতা একে অন্যকে বাড়িয়ে ক্লান্তির চক্র তৈরি করে।
### ক্লান্তি কমাতে যে ৫ অভ্যাসে মিলতে পারে উপকার
**১. একেবারে চলাফেরা বন্ধ করবেন না**
জয়েন্টে ব্যথা থাকলে ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে ইচ্ছা হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলে জয়েন্টের জড়তা ও পেশির দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে।
শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অল্প সময় হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং, পানিতে ব্যায়াম কিংবা ফিজিওথেরাপিস্টের নির্দেশনায় পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করা যেতে পারে। একবারে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে শরীরচর্চা করলেও উপকার পাওয়া সম্ভব। তবে ব্যায়ামের কারণে ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
**২. ঘুমের সময় ও অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন**
আর্থ্রাইটিসের ব্যথা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আবার পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ব্যথা ও ক্লান্তি আরও তীব্র মনে হতে পারে। এ সমস্যা কমাতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। রাতে চা-কফি পান কমিয়ে দিন। ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় তাকিয়ে থাকাও এড়িয়ে চলুন।
পাশাপাশি ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক রাখুন। রাতে ব্যথার কারণে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে বিষয়টি অবহেলা না করে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
**৩. খাবারের তালিকায় রাখুন পুষ্টিকর খাবার**
খাবার আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসার বিকল্প নয়। তবে সুষম খাদ্য শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, বাদাম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন। নিয়মিত ও পরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
**৪. কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিন**
আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতিটি কাজ একটানা শেষ করার চেষ্টা না করাই ভালো। ঘরের কাজ একসঙ্গে না করে কয়েকটি ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। যেমন, সবজি কাটার সময় দাঁড়িয়ে না থেকে বসতে পারেন। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের নাগালে রাখুন, যাতে বারবার হাঁটতে না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব আর্থ্রাইটিস অ্যান্ড মাসকিউলোস্কেলেটাল অ্যান্ড স্কিন ডিজিজেসের পরামর্শ অনুযায়ী, শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রামও প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকার পরিবর্তে কাজের ফাঁকে ছোট ছোট বিরতি নেওয়া কার্যকর হতে পারে।
**৫. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিকে অবহেলা করবেন না**
সব ক্লান্তির কারণ আর্থ্রাইটিস নয়। রোগের প্রদাহ ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ক্লান্তি বাড়তে পারে। এ ছাড়া রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা ও সংক্রমণের কারণেও শরীর দুর্বল লাগতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে পারেন। শুধু বিশ্রাম নিয়ে সমস্যা কাটানোর চেষ্টা না করে ক্লান্তির প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ










