খবর বাংলা ডেস্ক :
রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের ৫ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে—এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার দেওয়া জবানবন্দিতেও ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকারের বিষয়টি উঠে এসেছে। আদালত আরও বলেন, ঘটনার পর সোহেল রানাকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। ফলে অপরাধ সংঘটন ও পরবর্তী কার্যক্রমে দুজনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
রায়ে বিচারক মন্তব্য করেন, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে যথাযথ শাস্তি না দিলে বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ হবে। আদালতের মতে, আসামিদের অপরাধ সংশোধনযোগ্য নয়।
রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, যার বিচারকাজ মাত্র চার দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মামলায় রামিসার পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
১ জুন মামলার বিচারকাজ শুরু হয় এবং পরদিন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর দ্রুত শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











