সখিপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় অসুস্থ এক প্রবাসীকে গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। তবে কে বা কারা তাঁকে সেখানে রেখে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অসুস্থ ওই ব্যক্তির নাম জামাল উদ্দিন ওরফে মিস্টার (৫৫)। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে জামাল উদ্দিন সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি সৌদি আরবে যান এবং সেখানে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন।
প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলে স্বজনরা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, গত শনিবার (১ আগস্ট) গভীর রাতে তাঁকে কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে রেখে যাওয়া হয়। সারা রাত তিনি প্লাস্টিকের বস্তার ওপর শুয়ে ছিলেন। রোববার সকালে স্থানীয়রা তাঁকে দেখতে পান। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তাঁর ভাতিজি ইসমত আরা তাঁকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন।
জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিল অভিযোগ করেন, বিদেশে উপার্জিত অর্থের বেশির ভাগই জামাল তাঁর স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরার পর তাঁর চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব নিতে পরিবারের সদস্যরা অনীহা দেখিয়েছেন। তিনি এ ঘটনাকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জামাল উদ্দিনের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ছেলে আবু রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন। তাঁর দাবি, তিনি স্বল্প বেতনে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন এবং বাবার সঙ্গে এমন আচরণ সমর্থন করেন না।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালের ভাতিজি ইসমত আরা জানান, চাচাকে রাস্তায় অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে মানবিক কারণে তিনি নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে জামাল উদ্দিন তাঁর বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, একজন অসুস্থ মানুষকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে এবং প্রয়োজনে তাঁর চিকিৎসা ও থাকার ব্যবস্থা করতে স্থানীয়রা সহযোগিতা করবেন।











