সখিপুর সংবাদ দাতা
অনলাইনে জুয়ায় আসক্তি ও পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী কাকলী আক্তারকে (৩৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মেহেদী হাসানকে (৩৮) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান সখীপুর উপজেলার ইচ্ছাদিঘী (আতিয়াপাড়া) এলাকার হায়দর আলীর ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. শফিকুল ইসলাম (রিপন) জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে মেহেদী হাসান ও কাকলী আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের ১৫ বছরের মেয়ে মেরী ও ১০ বছরের ছেলে মিরাজ রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ার টাকা এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্ত্রী কাকলীর সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। এসব ঘটনায় কাকলী শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই কাকলী সন্তানদের নিয়ে সখীপুর জেলের মোড়ে তার চাচার বাসায় চলে যান। পরে ৩ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে মেহেদী ফোন করে জানান, তিনি বাসার ফ্রিজ বিক্রি করে দেবেন। স্বামীর কথায় বিশ্বাস করে সকাল ১০টার দিকে সন্তানদের নিয়ে ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন কাকলী।
বাসায় একটি নতুন ধারালো ছুরি দেখতে পেয়ে কাকলী তার স্বামীকে সেটি কেনার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের বর্ণনা অনুযায়ী, এ সময় মেহেদী ক্ষিপ্ত হয়ে বিছানার নিচে রাখা ছুরি বের করে কাকলীর পিঠে আঘাত করেন।
কাকলীর চিৎকার শুনে মেয়ে মেরী ও বাড়িওয়ালি সেখানে ছুটে আসেন। এ সময় মেহেদী রক্তাক্ত ছুরি হাতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা কাকলীকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিনই নিহতের ভাই সেনাসদস্য মো. বাদল মিয়া সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকা থেকে মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। তাদের মধ্যে নিহতের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে মেরী আক্তার আদালতে তার বাবার হাতে মায়ের পিঠে ছুরিকাঘাতের ঘটনা প্রত্যক্ষ করার কথা জানান।
মামলার কার্যক্রম চলাকালে মেহেদী আদালতে দোষ স্বীকার করেন। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় আসামি মেহেদী হাসান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।











