খবরবাংলা ডেস্ক :
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের মাচালং এলাকায় আঞ্চলিক দুই সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কছমিতা ত্রিপুরা (৮) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে মাচালং এলাকার মন্দিরছড়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে শিশুটির হাত থেকে গুলি বের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গুলিবিদ্ধ কছমিতা ত্রিপুরা মন্দিরছড়া পাড়ার অলেন্দ্র ত্রিপুরার মেয়ে। সে মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে আঞ্চলিক দুই সংগঠনের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে। মঙ্গলবার সকালে গোলাগুলির সময় কছমিতা গুলিবিদ্ধ হয়।
আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা স্থানীয় কার্বারী (পাড়া প্রধান) মতেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সংঘাতের মধ্যে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গোলাগুলির কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, এলাকার জুমচাষিরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না। একই কারণে স্থানীয়দের হাটবাজারে যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাজেক এলাকায় এর আগেও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সংঘাতের মধ্যে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিক হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুনে বাঘাইহাট এলাকায় দুই আঞ্চলিক সংগঠনকে ঘিরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে একজন পরিবহন শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
শিশুটির বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গুলিবিদ্ধ শিশুটির ছবি পুলিশ পেয়েছে। তবে ঘটনার পর পর্যন্ত তাকে সরাসরি পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে গোলাগুলিতে জড়িত সংগঠনগুলোর পরিচয় বা সংঘাতের বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চলমান গোলাগুলির মধ্যে একজন স্কুলশিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ










