খবর বাংলা ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমাতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নত পরীক্ষাগারের সুবিধা রাজধানীকেন্দ্রিক হলেও ধাপে ধাপে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা একদিনে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে শক্তিশালী করে জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়া বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, হামের টিকা নিয়ে আগের দুই সরকারের উদাসীনতা ছিল ক্ষমাহীন অপরাধ। বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
সম্মেলনে উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের আস্থা অর্জনে মানবিক আচরণ ও পেশাগত দক্ষতা দুটিই প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম—এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার স্বাস্থ্যখাতে কাজ করছে। তিনি জানান, দেশের মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। তাই উপজেলা পর্যায়ে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো রোগ বাড়ছে। এসব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারা দেশে ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের বড় অংশ নারী হবেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেবেন।
মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদ মাতৃত্বকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব ও নবজাতক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, সরকার একটি সমন্বিত ই-স্বাস্থ্য কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিমূলক, টেকসই ও জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











