খবর বাংলা ডেস্ক :
দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে হামের সংক্রমণ এবং এর জটিলতায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা। হামে আক্রান্ত হওয়ার মাত্র চারদিনের মাথায় প্রাণ হারায় শিশু জুবায়ের। এর এক সপ্তাহ পর হামের টিকা দেওয়ার জন্য তার পরিবারকে ফোন করেন এক স্বাস্থ্যকর্মী। এর আগে টিকা না থাকায় হাসপাতাল থেকে ফেরত দেওয়া হয়েছিল জুবায়েরকে।
শিশুটির মা কাকলি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ওষুধ না থাকায় আগে তার সন্তানকে কোনো টিকা দেওয়া হয়নি, অথচ মৃত্যুর পর স্বাস্থ্যকর্মীরা খোঁজ নিচ্ছেন। দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া অনেক শিশুর করুণ গল্পই জুবায়েরের মতো। অনেক শিশু টিকা নিতে গিয়ে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফেরত এসেছে, আবার কেউ কেউ অসুস্থতার কারণে সময়মতো টিকা নিতে পারেনি, যার মূল্য দিতে হচ্ছে জীবনের বিনিময়ে।
রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ৪৭টি শিশু মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে এক ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। মৃত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামে মারা যাওয়া ৬১ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই। অর্থাৎ ২৯ জন শিশুর ক্ষেত্রে টিকা দেওয়ার নির্দিষ্ট বয়সই হয়নি, যার মধ্যে এক মাসের শিশুও রয়েছে। অন্যদিকে, বয়স হলেও ভ্যাকসিনের অভাবে টিকা পায়নি ১৩ জন শিশু এবং মাত্র এক ডোজ করে পেয়েছে দুইজন। বর্তমানে দেশে ৯ এবং ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ হামের টিকা দেওয়া হয়। তবে সংক্রমণ ঠেকাতে এই টিকার বয়স আরও এগিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আসমা খান মৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে মায়েরা শিশুদের হামের উপসর্গগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারছেন না। ফলে তারা এটিকে সাধারণ জ্বর ভেবে ঘরে বসে চিকিৎসা করাচ্ছেন, যা মূলত মূল্যবান সময় নষ্ট করছে।
পরবর্তীতে শিশুদের কাশি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়ে নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে এবং দ্রুত অবস্থার অবনতি ঘটে মৃত্যু ডেকে আনছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, হামে মৃত্যুর ৫১ শতাংশই ঘটে ৯ মাস বয়সের আগে এবং ৪৪ শতাংশের মৃত্যু হয় ৯ মাস থেকে ৪ বছর বয়সের মধ্যে। মারা যাওয়া শিশুদের বড় অংশই তীব্র অপুষ্টির শিকার এবং আগে থেকেই অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত ছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, দুই ডোজ টিকা পূর্ণাঙ্গভাবে পেয়েছে এমন কোনো শিশুর হামে মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সার্বিক বিষয়ে বিশিষ্ট চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, শিশু ও মায়ের অপুষ্টি এবং শিশুকে পর্যাপ্ত বুকের দুধ না খাওয়ানোর কারণে শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি ঠিকমতো গড়ে ওঠে না।
সাধারণত ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মায়ের দুধের মাধ্যমে যে জন্মগত প্রতিরোধ ক্ষমতা পাওয়ার কথা বলা হয়, বাস্তবে তা কতটুকু তৈরি হচ্ছে সেটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শিশুদের এই অকাল মৃত্যু রোধ করতে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এবং মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











