খবর বাংলা ডেস্ক :
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর। আগামী জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, নতুন পে স্কেল শতভাগ বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক জানান, কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্ট আপডেট দেওয়া প্রয়োজন।
বড় ধাক্কা বাজেটে, পরিচালন ব্যয় ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি কঠোর ব্যয় সংকোচনের ঘোষণা থাকলেও আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় শেষ মুহূর্তে অনুৎপাদনশীল এই খাতে আরও ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে পরিচালন ব্যয় লাফিয়ে বেড়ে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াচ্ছে, যা ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) দ্বিগুণেরও বেশি। এর ফলে সামগ্রিক বাজেটের আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
যুগান্তরের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর করতে বাজেটে অতিরিক্ত ৩৭ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বিশাল এই পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে উন্নয়ন খাত যেমন সংকুচিত হচ্ছে, তেমনই অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ ও পরামর্শ অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তবে উৎপাদন না বাড়িয়ে ভোগ ব্যয় বাড়লে মূল্যস্ফীতি লাগামহীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদের বক্তব্য: “বহু বছর ধরে বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের সমন্বয় হয়নি, তাই জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বেতন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। তবে এই ব্যয়ের বিপরীতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সেবার মানও বাড়াতে হবে। রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে, যা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করবে।”
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় বা অপচয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু বরাদ্দের আকার না বাড়িয়ে ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকারকে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি অনুসরণ করতে হবে।











