মধুপুর সংবাদ দাতা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন বা টিকিট চান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম আজাহার। দীর্ঘদিন যাবত দলের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সুসংগঠিত করে রাখা এই নেতা মাঠপর্যায়ে একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ হিসেবে সুপরিচিত।
আজহারুল ইসলাম বৃহত্তর আউশনারা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে বিভক্ত আউশনারা ইউনিয়ন বিএনপির পরপর দুই বারের সভাপতি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত স্বৈরাচারী আমলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে একাধিক হামলা-মামলার শিকার হয়েও দলের আদর্শে অটুট ছিলেন এই পরীক্ষিত নেতা।
বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও দলের প্রতি আস্থা রাজনৈতিক জীবন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আজহারুল ইসলাম বিগত ২০১৭ সালের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপির দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবারও দলের হাইকমান্ড তার ত্যাগের মূল্যায়ন করে তাকে টিকিট দেবে বলে তিনি শতভাগ আশাবাদী।
তবে দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র ক্ষমতার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে নির্বাচন করেছি, অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দল নিশ্চয়ই এবার সেটির মূল্যায়ন করবে। তবে দল যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন বা সমর্থন দেবে, আমি তার হয়েই ভোটের মাঠে কাজ করতে প্রস্তুত।”
তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আজহারুল ইসলাম আজাহার জানান, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। উপজেলা বিএনপির পরামর্শ ও সহযোগিতায় আউশনারা ইউনিয়নের প্রত্যেকটি ওয়ার্ড কমিটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তিনি। দলীয় প্রতিটি কর্মসূচি ও মিছিল-মিটিংয়ে তার নেতৃত্বে আউশনারা থেকে বড় বড় মিছিলের অংশগ্রহণ এর বড় প্রমাণ। এমনকি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আউশনারা ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে যে আনুপাতিক ভোট পড়েছে, তা তার নিরলস পরিশ্রমের ফসল।
আউশনারাকে আধুনিক ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় দল থেকে সবুজ সংকেত পেলে পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত আউশনারা ইউনিয়নকে একটি রোল মডেল ও আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আজহারুল ইসলাম।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, বাজারঘাট ও স্যানিটেশনের আমূল পরিবর্তন করতে চান তিনি। স্থানীয় এমপি এবং বর্তমান সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এবং উপজেলা নেতাদের মাধ্যমে এই অঞ্চলের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করার আশাবাদ জানান তিনি।
আউশনারা মোটের বাজারের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ এদিকে স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নের নাম ‘আউশনারা’ হলেও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘আউশনারা মোটের বাজার’ এলাকা থেকে দীর্ঘ দিনেও কেউ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারেননি। ফলে এবার এই এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং তাদের মোটের বাজার থেকে আজহারুল ইসলামকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান।
রাজনীতির পাশাপাশি আজহারুল ইসলাম সামাজিক ও ব্যবসায়ী মহলেও বেশ জনপ্রিয়। তিনি মোটের বাজারের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন শিল্প ও বণিক সমিতির দুই বারের নির্বাচিত সভাপতি। এছাড়াও মোটের বাজার ট্রাক ড্রাইভার্স শ্রমিক ইউনিয়নের চার বারের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির আহবায়ক এবং অটো সিএনজি সমিতির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সবশেষে তিনি বলেন, “আমি আউশনারাবাসীর পাশে সবসময় ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। জীবনের যৌবনের উত্তাল সময়গুলো দলের পেছনে ও সাধারণ মানুষের জন্য বিলিয়ে দিয়েছি। জনগণের ভালোবাসাই আমার মূল শক্তি। আমি আউশনারাকে একটি আলোকিত ও আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে বিনির্মাণ করতে চাই।”











