মধুপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো থাকলেও বাস্তবে থামছে না প্রাণহানি। বেপরোয়া গতির যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে বানর, হনুমানসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী।
টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও বনের বিভিন্ন স্থানে টাঙ্গাইল বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে— “বন্য প্রাণী হত্যা বা আহত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সাবধানে গাড়ি চালান, বন্য প্রাণীর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করুন।” তবে এসব নির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনাঞ্চলে বন উজাড় এবং আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ায় বন্যপ্রাণীর খাদ্যসংকট তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আনারস ও কলাচাষে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। খাবারের সন্ধানে প্রাণীরা প্রায়ই মহাসড়কে চলে আসছে এবং দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে পড়ে মারা যাচ্ছে।
মধুপুর বনের মুনার বাইদ এলাকায় সম্প্রতি একটি বানর গাড়ির চাপায় মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় প্রাণীটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে তার সঙ্গীরা চারপাশে ঘিরে শোকাহত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায়। যানবাহনের শব্দ ও আতঙ্কে বন্যপ্রাণীরা সবসময়ই তটস্থ থাকে বলে জানান স্থানীয়রা।
পরিবেশ রক্ষা সোসাইটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি লিয়াকত হোসেন জনি বলেন, বন্যপ্রাণীর প্রতি চালকদের আরও মানবিক আচরণ প্রয়োজন। পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, বনের সড়কের পাশে নেট বা বেড়া স্থাপন করা হলে বন্যপ্রাণীর সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন করা জরুরি। বন্যপ্রাণী হত্যা বা আহত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের জানান, বন পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। এটি সফল হলে বনের বৃক্ষ ও বন্যপ্রাণীর খাদ্যসংস্থান উন্নত হবে। তবে তিনি আরও বলেন, মানুষের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় বানরের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে, যা তাদের স্বাভাবিক বনের খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি করছে।











