খবরবাংলা ডেস্ক :
হৃদরোগ বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাক সাধারণত হঠাৎ ঘটে না; এর আগে শরীর বিভিন্ন ধরনের সতর্কসংকেত দিতে শুরু করে। অনেকেই এসব লক্ষণকে সাধারণ ক্লান্তি, গ্যাস্ট্রিক বা অন্য সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন, ফলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে বা নতুন কোনো অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের ঝুঁকির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে—অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা, হঠাৎ মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অল্প সময়ে ওজন বেড়ে যাওয়া, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বিশেষ করে সাদা বা গোলাপি কফসহ কাশি, হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম, রাতে শ্বাসকষ্টে ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক নাক ডাকা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া।
এ ছাড়া বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা, সেই ব্যথা বাম হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া, অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট, হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা, পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া, ত্বক ঠান্ডা বা চকচকে হয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, বিশ্রামেও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও হৃদরোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, দীর্ঘদিনের মাড়ির প্রদাহ বা রক্তপাত, যৌন অক্ষমতা, ঘন ঘন প্রস্রাবের জন্য রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং বারবার বুকে অস্বস্তি অনুভব করাও হৃদযন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে সবসময় একই রকম নাও হতে পারে। অনেক সময় হালকা উপসর্গ দিয়েই সমস্যা শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে গুরুতর অবস্থায় পৌঁছায়।
তাই বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা হৃদস্পন্দনে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই হার্ট অ্যাটাকজনিত জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।











