খবরবাংলা ডেস্ক :
সকালে শ্যাম্পু করার পরও বিকেলের মধ্যেই মাথায় চুলকানি শুরু হওয়া, চুল আঁচড়াতে গেলে সাদা গুঁড়োর মতো খুশকি ঝরে পড়া—এ সমস্যা অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। অনেকে দামি শ্যাম্পু বা হেয়ার ট্রিটমেন্টের আশ্রয় নিলেও স্থায়ী সমাধান পান না। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুশকি দূর করতে হলে আগে এর প্রকৃত কারণ জানা জরুরি।
খুশকি কেন হয়?
মাথার ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই ম্যালাসেজিয়া (Malassezia) নামের একটি ছত্রাক বা ইস্ট থাকে। তবে অতিরিক্ত তেল, ঘাম, গরম আবহাওয়া, মানসিক চাপ কিংবা অপরিষ্কার মাথার ত্বকের কারণে এই ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
এর ফলে মাথার ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ত্বকের মৃত কোষ দ্রুত ঝরে পড়তে থাকে। এই মৃত কোষগুলোই মূলত খুশকি হিসেবে দেখা যায়।
খুশকি কত ধরনের?
খুশকি সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে।
তৈলাক্ত খুশকি:
এ ধরনের খুশকি হলদেটে ও কিছুটা চটচটে হয়। সহজে ঝরে পড়ে না এবং চুলের গোড়ায় লেগে থাকে। এতে মাথায় চুলকানি, জ্বালাপোড়া এবং অতিরিক্ত চুলকানোর কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যাদের মাথার ত্বক তৈলাক্ত, তাদের এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।
শুষ্ক খুশকি:
এ ধরনের খুশকি গুঁড়োর মতো ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ে এবং কাঁধ বা পোশাকে জমে থাকে। শীতকালে এর প্রকোপ বাড়লেও অনেকের সারা বছরই এই সমস্যা থাকে। অনেকেই মনে করেন মাথায় বেশি তেল দিলে খুশকি কমে, কিন্তু বাস্তবে এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
গরমে কেন খুশকি বাড়ে?
গরমে মাথায় অতিরিক্ত ঘাম ও তেল জমে, যা ছত্রাক বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়া দীর্ঘ সময় হেলমেট ব্যবহার, ভেজা চুল বেঁধে রাখা বা মাথা পরিষ্কার না রাখলেও খুশকি বেড়ে যেতে পারে।
খুশকি দূর করার উপায়
সাধারণ শ্যাম্পু মাথার মৃত কোষ সাময়িকভাবে পরিষ্কার করলেও খুশকির মূল কারণ দূর করতে পারে না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিফাঙ্গাল (ছত্রাকনাশক) শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।
শ্যাম্পু ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
- শুরুতে প্রতি ২ থেকে ৩ দিন পরপর একবার ব্যবহার করুন।
- খুশকি নিয়ন্ত্রণে এলে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।
- সমস্যা ফিরে আসা ঠেকাতে মাসে অন্তত দুইবার ব্যবহার চালিয়ে যান।
খুশকি প্রতিরোধে যা করবেন
- মাথা ঘেমে গেলে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- ভেজা বা ঘেমে থাকা চুল বেঁধে রাখবেন না।
- নিয়মিত চিরুনি, হেলমেট, স্কাল ক্যাপ ও তোয়ালে পরিষ্কার রাখুন।
- মাথার ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- অতিরিক্ত চুলকানো থেকে বিরত থাকুন, কারণ এতে ত্বকে ক্ষত ও সংক্রমণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খুশকি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। তাই উপসর্গ কমে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত যত্ন ও প্রয়োজনীয় শ্যাম্পু ব্যবহার করলে খুশকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











