টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। অভিযোগ উঠেছে, মাসে মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও অনেকের বিল দ্বিগুণ, এমনকি তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের দাবি, অনেক সময় মিটার না দেখেই অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে বিল তৈরি করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ফৈলারঘোনা গ্রামের মো. আবু হানিফের বাড়িতে তিনটি লাইট, তিনটি ফ্যান ও একটি ফ্রিজ রয়েছে। তার অভিযোগ, বেশিরভাগ সময় লোডশেডিং থাকলেও আগের তুলনায় বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বেড়েছে। মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কাগজেরও মিল নেই। প্রায় ৫০০ ইউনিট অতিরিক্ত দেখিয়ে বিল করা হয়েছে বলে দাবি তার। আগে যেখানে ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বিল আসত, এখন সেখানে প্রায় ২ হাজার টাকা বিল দিতে হচ্ছে।
টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দা একেএম নজরুল ইসলামের অভিযোগও একই ধরনের। তার মিটারে ২ হাজার ৮৫৮ ইউনিট দেখালেও তিনি ইতোমধ্যে ৪ হাজার ১৫০ ইউনিটের বিল পরিশোধ করেছেন। এরপরও গত মাসে ২ হাজার ২০২ টাকার আরেকটি বিল পরিশোধ করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, মিটার রিডাররা কৌশলে ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তী মাসগুলোতে অতিরিক্ত বিল আসতে শুরু করে।
ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আবু সাইদ জানান, তার বাসায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইউনিট অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। বিষয়টি মিটার রিডার ও বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়েও তিনি সমাধান পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিটার রিডার দাবি করেন, তারা সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত নন, মাস্টাররোলে কাজ করেন। বিভিন্ন কোম্পানির মতো তাদেরও বিল তৈরির টার্গেট দেওয়া হয়। ফলে অনেক সময় বাড়তি বিল করতে বাধ্য হন তারা। তবে তার এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের টাঙ্গাইল কচুয়াডাঙ্গা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা দ্রুত সমাধান করা হয়।
গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যার কারণে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সঠিক মিটার রিডিং নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।











