খবরবাংলা ডেস্ক :
সরকারি কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সূচি, বিভিন্ন ভাতা ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হলেও কয়েকটি ভাতার হার কমানো হয়েছে। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়া ও বাংলা নববর্ষ ভাতা রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হারও কমানো হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হওয়ায় ওই সময় থেকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন। তবে নতুন কাঠামোর অন্যান্য ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন কাঠামো অনুযায়ী সুবিধা পাবেন।
কমছে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার নতুন বেতন কাঠামোয় বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমানো হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এ হার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার উপজেলায় বর্তমানে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা ও অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভারের বাইরে কর্মরতদের বাড়ি ভাড়া বর্তমানে মূল বেতনের ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় এ হার ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে।
তবে মূল বেতন বাড়ার কারণে ভাতার হার কমলেও টাকার অঙ্কে বাড়ি ভাড়া আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।
বাংলা নববর্ষ ভাতাও কমছে বাংলা নববর্ষ ভাতার হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।
তবে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাওর, দ্বীপ ও চরভাতাও মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক ও নিরাপত্তা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি, বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার ও পরিমাণ বহাল রাখা হয়েছে। ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমানের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
উচ্চ গ্রেডে কমছে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার নতুন কাঠামোয় উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পান।
নতুন কাঠামোয় ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ হার বহাল থাকছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











