খবরবাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ৫ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) এবং রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, দুই দেশের নিজস্ব সক্ষমতা, সম্পদ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে পারস্পরিক স্বার্থে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকের সাইডলাইনে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকারিভাবে কাজ করে এ কমিশন।
ঢাকায় সফররত রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন রাশিয়ার ফেডারেল এজেন্সি ফর ফিশারিজের প্রধান ইলিয়া শেস্তাকভ। তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর অর্থ পরিশোধব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প লেনদেন অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জ্বালানি খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ইলিয়া শেস্তাকভ। তাঁর মতে, জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে রাশিয়ার। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা পূরণ এবং দেশের তেল-গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিতেও প্রস্তুত দেশটি।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হকও বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যৌথভাবে চিহ্নিত করে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, টুপি, আসবাবপত্র ও খাদ্যপণ্য রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে গম, সার, কৃষিপণ্য, শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরঞ্জাম আমদানি করা হয়।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর প্রকল্পেও রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা রয়েছে। প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্প দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট চলতি নভেম্বর মাসের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কৃষি খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে কার্যকর অর্থ পরিশোধব্যবস্থা, পরিবহন ও সরবরাহ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











