খবরবাংলা ডেস্ক :
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর হুন্দাই ‘গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট’ পুরস্কার জিতেছেন কেপ ভার্দের ফুটবলার সিডনি লোপেস কাব্রাল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নকআউট পর্বের ম্যাচে করা তার দৃষ্টিনন্দন গোলটি টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে লোপেস কাব্রাল বলেছিলেন, তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা ছিল লিওনেল মেসির সঙ্গে একটি ছবি তোলা। তবে শেষ পর্যন্ত শুধু মেসির মুখোমুখি হওয়াই নয়, নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়েন ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দেন গোলের ওপরের কোণে। গোলটি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের নাগালের বাইরে চলে যায় এবং ম্যাচে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। যদিও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় দলটিকে, তবুও লোপেস কাব্রালের সেই গোল বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
এই পুরস্কারের দৌড়ে তিনি উজবেকিস্তানের এলদর শোমুরোদভ এবং হাইতির উইলসন ইসিদোর গোলকে পেছনে ফেলেছেন। অতীতে এই সম্মান অর্জন করেছেন ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, দিয়েগো ফোরলান, হামেস রদ্রিগেজ, বেঞ্জামিন প্যাভার্ড ও রিচার্লিসনের মতো তারকারা।
পুরস্কার জয়ের পর লোপেস কাব্রাল বলেন, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে জায়গা তৈরি করার পরই তিনি শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বলটি যখন গোলের ওপরের কোণের দিকে যাচ্ছিল, তখনও তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে এমন একটি গোল করতে পেরেছেন।
গোল উদযাপনের সময় ঘটে যায় আরেক আবেগঘন ঘটনা। দর্শক গ্যালারিতে থাকা তার মা তেরেসা ছেলের দুর্দান্ত গোল দেখে আবেগে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে কাব্রাল জানান, ম্যাচের আগে তিনি মাকে কথা দিয়েছিলেন, গোল করতে পারলে তার কাছেই ছুটে যাবেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, সবাই তার মাকে সামলাতে ব্যস্ত।
আরেকটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা মার্সেলোর প্রশংসা পাওয়া। কাব্রাল জানান, ম্যাচের পর মার্সেলো তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে তিনিও কাব্রালের গোলকেই ভোট দিয়েছেন। নিজের অন্যতম আদর্শের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাত্র তিন বছর আগেও জার্মানির পঞ্চম বিভাগের ফুটবলে খেলতেন লোপেস কাব্রাল। আর্থিক কষ্টে জীবন কাটানো সেই তরুণ এখন বিশ্বকাপের সেরা গোলের পুরস্কার জিতে ফুটবল বিশ্বের অনুপ্রেরণার নতুন নাম হয়ে উঠেছেন।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











