গোপালপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পৌরশহরের বৈরাণ নদীর উপর নির্মিত হাটবৈরাণ ব্রিজটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় এলজিইডি অফিস ব্রিজটিকে বিপজ্জনক ঘোষণা করলেও প্রতিদিন হাজারো মানুষ এবং যানবাহন জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে এটি ব্যবহার করছে।
ব্রিজটি ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত এবং দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থায়। পূর্বে নদী খননের কারণে পশ্চিম দিকের সেতুটি ধসে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে পূর্ব দিকের ব্রিজটিতে। সরজমিনে দেখা গেছে, দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে, পাটাতনে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, বিম ও অ্যাবাটমেন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর খননের কারণে দুটি পিলার পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সমিতির সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি দিয়ে ধোপাকান্দি ও নগদাশিমলা ইউনিয়নের প্রায় দশ গ্রামের মানুষ চলাচল করে। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কৃষকরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন। তবে বড় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তিনি নতুন আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ দ্রুত শুরু করার দাবি জানান।
গোপালপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ৩২ লাখ টাকার ডিজাইন ও ড্রইং তৈরি করা হয়েছে, তবে অর্থাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন আটকে আছে।
এদিকে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। সরেজমিন মূল্যায়নের পর তিনি হাটবৈরাণ ব্রিজের পূর্ণাঙ্গ পুণর্নিমাণের জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেন এবং দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুর সালাম পিন্টু, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম রুবেল এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন ব্রিজ নির্মিত হলে চলাচলে সহজ হবে এবং বহু বছরের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।











