মো.আজিজুল হক
,
নাগরপুর প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বাবনাপাড়া (বেপাড়িপাড়া) এলাকার বাসিন্দা মোঃ বিষু ব্যাপারী (২৭) আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা এই তরুণ সোমবার (১ জুন ) সকালে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত বিষু ব্যাপারী উপজেলার বাবনাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হামিদ ব্যাপারীর ছেলে। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস ধরে তিনি কিডনির জটিল রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছিল। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল।
সম্প্রতি বিষু ব্যাপারীর অসুস্থতা ও চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ এরফান উদ্দিনের নজরে আসে। পরে তিনি বিষয়ের খোঁজখবর নেন এবং মানবিক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
বিষু ব্যাপারীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ এরফান উদ্দিন। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “একজন অসহায় যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মহান আল্লাহ মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং তার পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দিন।”
এদিকে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা নাগরপুর উপজেলা ইউনিটের পক্ষ থেকেও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, “বিষু ব্যাপারীর মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষু ব্যাপারী ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও বিনয়ী স্বভাবের একজন যুবক। জীবিকার তাগিদে তিনি চিড়ামুড়ির টানা বিক্রির কাজ করতেন এবং পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। দীর্ঘ অসুস্থতার পর তার মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিষু ব্যাপারীর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তার অকাল মৃত্যুতে নাগরপুরে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।










