নিজস্ব প্রতিবেদক :
যখন বিচার বিলম্বিত হয় – অপরাধ পুনরাবৃত্তি হয়। যখন ক্ষমতাবানরা রক্ষা পায়Ñআইনের প্রতি মানুষের আস্থা ভেঙে পড়ে। আমরা দেখেছি, ঘটনার পর প্রেস ব্রিফিং হয়। ঘটনার পর গ্রেপ্তারের ছবি আসে। কিন্তু দ্রুত বিচার কোথায়? দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কোথায়? যখন বিচার বিলম্বিত হয়, তখন অপরাধী বার্তা পায় “সময় গেলে সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। এসময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন- আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আপনার সাংবিধানিক দায়িত্ব। ব্যর্থ হলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। জনগণ হিসাব চাইবে। তাই অতিদ্রুত তনু, মুনিয়া, আছিয়া থেকে শুরু করে এযাবতকালে প্রত্যেকটি ধর্ষণ ও হত্যার কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা, নরসিংদী, পাবনা ও হাজারীবাগসহ সারাদেশে শিশু ও নারী ধর্ষণ এবং হত্যার বিচারের দাবিতে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ছাত্রনেতা ফাতেমা রহমান বীথি। শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এসময় জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ছাত্রনেতা ফাতেমা রহমান বীথি বলেন, আমরা মনে করি, যখন রাষ্ট্র কঠোর বার্তা দেয় না, তাই অপরাধীরা সাহস পায়। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, একটি রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব শিশু,নারীসহ বাংলাদেশের প্রত্যকটি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে? কেন অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও বিচার দীর্ঘসূত্রতায় ঝুলে থাকে? কেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয় না?
এসময় বিথি আরো বলেন- আমরা লক্ষ্য করছি, প্রশাসন ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে, কিন্তু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কোথায়? আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
নির্যাতন ও হত্যার মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করতে হবে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকায় শিশু সুরক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে।
উক্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, যে ঘটনা ঘটছে – এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এগুলো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। আজ আমরা বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সরাসরি প্রশ্ন রাখছি- আপনার অধীনে পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা- তাহলে কেন অপরাধীরা এতটা সাহস পায়? কেন তারা জানে, ধর্ষণের পর হত্যা করেও পার পাওয়া সম্ভব? হ্যাঁ, আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলছি, ধর্ষণের পর হত্যা। নৃশংসভাবে হত্যা। প্রমাণ মুছে ফেলতে হত্যা। অপরাধ ঢাকতে হত্যা।











