খবরবাংলা ডেস্ক :
যুক্তরাজ্যে মেটার বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম। ইনস্টাগ্রামের নতুন ‘ইনস্ট্যান্টস’ ফিচার চালুর আগে অবৈধ কনটেন্ট ও শিশুদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৩ মে ইনস্টাগ্রামে ‘ইনস্ট্যান্টস’ চালু করে মেটা। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বন্ধু ও অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। শেয়ার করা কনটেন্ট স্বল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান থাকে এবং পরে অদৃশ্য হয়ে যায়।
অফকমের তদন্তের মূল বিষয় হলো, ফিচারটি চালুর আগে মেটা যুক্তরাজ্যের অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছিল কি না। বিশেষ করে অবৈধ কনটেন্টের ঝুঁকি এবং শিশুদের জন্য সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে যথেষ্ট ও উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করবে সংস্থাটি।
‘নিরাপত্তা শুরু থেকেই নকশার অংশ হওয়া উচিত’ অফকমের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক জর্জ লাস্টি বলেন, প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়টি যুক্তরাজ্যের অনলাইন নিরাপত্তা আইনে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো নতুন ফিচার চালু করার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যোগ করার পরিবর্তে শুরু থেকেই নিরাপত্তাকে ফিচারের নকশার অংশ করা উচিত। অফকম জানিয়েছে, তদন্তের প্রথম ধাপে তারা তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করবে। এরপর আইন লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে মেটাকে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
মেটার দাবি, আগে থেকেই ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে তবে মেটা বলছে, ইনস্ট্যান্টস চালুর আগে তারা প্রয়োজনীয় ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেছে এবং এ বিষয়ে অফকমকে একাধিকবার জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ফিচারটিতে শুরু থেকেই বেশ কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইনস্ট্যান্টসে স্ক্রিনশট নেওয়া, কনটেন্ট পুনরায় শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এতে কোনো পাবলিক ফিড নেই এবং কিশোরদের জন্য ইনস্টাগ্রামের টিন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা ব্যবস্থাও কার্যকর থাকে।
তদন্তে অফকমকে সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে মেটা। অনলাইন সেফটি অ্যাক্টে কী আছে? যুক্তরাজ্যের Online Safety Act সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে অবৈধ কনটেন্টের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং শিশুদের সম্ভাব্য ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা অন্যতম।
আইন অনুযায়ী, কোনো প্ল্যাটফর্মের নকশা বা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার আগে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি নতুন করে মূল্যায়ন করতে হয়। অফকমের মতে, ইনস্ট্যান্টস চালুর ক্ষেত্রেও এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হতে পারে।
তদন্তে মেটা আইন লঙ্ঘন করেছে বলে প্রমাণিত হলে অফকম সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড অথবা কোম্পানিটির যোগ্য বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ জরিমানা করতে পারে। পাশাপাশি আইন মেনে চলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দিতে পারে।
মেটার বিরুদ্ধে আগেও পদক্ষেপ নিয়েছে অফকম অনলাইন নিরাপত্তা আইনের আওতায় বিভিন্ন অনলাইন সেবার বিরুদ্ধে এর আগেও তদন্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছে অফকম। তবে ইনস্টাগ্রামের ‘ইনস্ট্যান্টস’ ফিচারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তদন্তটিই অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের অধীনে মেটার বিরুদ্ধে অফকমের প্রথম আনুষ্ঠানিক তদন্ত।
এদিকে অনলাইন নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মেটা ও অফকমের মধ্যে আগেও বিরোধ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি মেটাসহ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অফকমের তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
তবে ইনস্ট্যান্টস নিয়ে নতুন তদন্তের ফলাফল এখনো আসেনি। অফকম জানিয়েছে, তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী তথ্য প্রকাশ করা হবে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ










