গোপালপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামে প্রেমের সম্পর্কের পর স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিয়ে হয়েছিল ১৯ বছর বয়সী মোনিয়া রহমান মুন্নির। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার হত্যার অভিযোগ তুলেছে।
বুধবার সকালে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে স্বামী জিহাদ ভূঁইয়ার বাড়ি থেকে মুন্নির মরদেহ উদ্ধার করে গোপালপুর থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত মোনিয়া রহমান মুন্নি উপজেলার ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া ভূঁইয়াবাড়ীর মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী একই গ্রামের লাল মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে জিহাদ ভূঁইয়া।
নিহতের মা রিনা বেগমের অভিযোগ, তার মেয়েকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিয়ের আগে জিহাদ বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মুন্নির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এসব বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রেমের সম্পর্কের জেরে কয়েক মাস আগে মুন্নি বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা পাঁচ দিন অনশন করেন। পরে এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় গত ৩০ এপ্রিল ৯ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই মুন্নির ওপর নির্যাতন চলছিল। এ ঘটনায় আগে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল। এখন তারা হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর স্বামী জিহাদ ভূঁইয়া ও তার মা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”











