খবরবাংলা ডেস্ক :
বগুড়ায় চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ী রাকিবুল হাসান হৃদয়কে হত্যার মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ধাওয়াপাড়া এলাকার টিয়া মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন (২৩) ও আসলামের ছেলে রাব্বি (২৪)।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন একই এলাকার মমতাজের ছেলে আশিক (২২), মনু মিয়ার ছেলে শাকিল (২৩) ও সাফির ছেলে মতিন (২৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার কৈপাড়া এলাকায় হৃদয় ভ্যারাইটি স্টোরে গিয়ে আসামিরা ঈদের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী রাকিবুল হাসান হৃদয় ও তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদকে (৫৮) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলায় মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এস এম মাসুদুর রহমান স্বপন বলেন, চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হৃদয়কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিয়েছেন।
রায়ের পর আদালতের বাইরে আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানান মামলার বাদী ও নিহত হৃদয়ের মা আয়শা সিদ্দিকা। তিনি জানান, তার একমাত্র ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিলেন। ঈদের আগের দিন তাকে হত্যা করা হয়। আর ঈদের পরের দিন হৃদয়ের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়, যে কখনো তার বাবাকে দেখার সুযোগ পায়নি।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।










