বিশেষ প্রতিবেদক :
টাঙ্গাইলে পুলিশের বাঁধা পেরিয়ে করে ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ফরহাদ ইকবালের নেতৃত্বে বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে তার সমর্থকরা। ৭ নভেম্বর (শনিবার) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মিছিলে বেশ কয়েকবার পুলিশ বাঁধা দেয় বলে অভিযোগ করেছেন তার সমর্থকরা। পুলিশের এই বাঁধা দেয়া নিয়ে ফরহাদ ইকবাল ও তার সমর্থকরা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এছাড়াও তারা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে পুলিশের বাঁধা ও কর্মী সমর্থকদের উপর হামলার ভিডিও আপলোডও করেন ফরহাদ ইকবাল।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের নেতৃত্বে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি নিজ এলাকা বেপারী পাড়া থেকে বের করার উদ্যোগ নেয়া হয়। মিছিলে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ফরহাদ ইকবালের সমর্থক আসতে শুরু করলে পুলিশী বাঁধার সম্মুখীন হয় বলে অভিযোগ করেছে সমর্থকরা। এছাড়াও মিছিলেও পুলিশের বাঁধার অভিযোগ তাদের।
নেতাকর্মী ও ফরহাদ ইকবালের আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিল শুরু করার পর প্রথমে বেপারী পাড়া ফরহাদ ইকবালের বাড়ীর সামনে পুলিশ বাঁধা দেয়। মিছিলটি পৌর উদ্যানের সামনে এসে পৌঁছালে সেখানে আরেক দফা পুলিশী বাঁধার সম্মুখীন হয় বলে জানিয়েছেন ফরহাদ ইকবালের সমর্থকরা। এছাড়া মিছিলে অংশ নিয়ে ফিরে যাওয়ার পথে মাহমুদনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের আপন ভাতিজা বাহারুল ইসলাম বাহারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা যায়।
ফরহাদ ইকবাল তার পোস্টে যা লেখেন –
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মিছিল নিয়ে ফরহাদ ইকবাল তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে দুটি পোস্ট দেন। একটি পুলিশের বাঁধা দেয়ার ভিডিও, অপরটি নেতাকর্মীদের উপর হামলা নিয়ে।
প্রথম পোস্টে ফরহাদ ইকবাল একটি ভিডিও আপলোড করেন। সেখানে তিনি একটি ক্যাপশনে লেখেন- “৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. ফরহাদ ইকবালের নেতৃত্বে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিল সমাবেশ।” সেখানে মিছিলে পুলিশের বাঁধা দেয়ার একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। ভিডিওতে “সমর্থকদের চাপে পুলিশকে মিছিলে হারিয়ে যেতে দেখা যায়”।
দ্বিতীয় পোস্টে ফরহাদ ইকবাল একজন আহত নেতার ছবি পোস্ট করেন। পোস্টের সাথে ক্যাপশনে লেখেন। সেই ক্যাপশনে ফরহাদ ইকবাল র্যালিতে অংশ নেয়া বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপর চালানো হামলার প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করেন।
ফরহাদ ইকবাল তার পোস্টের ক্যাপশনে হামলাকারীদের নব্য বিএনপি বলে উল্লেখ করে লিখেছেন- “আজ ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শুরু থেকেই আমার মিছিলে বিভিন্নভাবে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড থেকে আসার পথে নেতাকর্মীদের বাঁধা দেওয়া হয়। সকল বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিল শেষে ফেরার পথে মাহমুদনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বারবার কারানির্যাতিত নেতা, টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের আপন ভাতিজা বাহারুল ইসলাম বাহারের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা মামলার চিহ্নিত আসামি, নব্য বিএনপি নামধারী নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীরা।”
এই নেক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফরহাদ ইকবাল। সেই সাথে অনতিবিলম্বে এই হামলার সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।











