খবর বাংলা ডেস্ক :
পেটের গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বদহজম কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যায় নিয়মিত ভোগেন অনেক মানুষ। কেউ ওষুধের ওপর নির্ভর করেন, আবার কেউ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যার মূল সমাধান লুকিয়ে আছে দৈনন্দিন খাবার খাওয়ার অভ্যাসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়মিত খাবার খাওয়া, দ্রুত গিলে ফেলা, রাতে ভারী খাবার গ্রহণ এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়ার মতো অভ্যাস হজমের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি পেতে হলে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
সময়মতো খাবার খাওয়ার গুরুত্ব চিকিৎসকদের মতে, শরীরের হজম প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময় অনুসরণ করে কাজ করে। সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হজমক্ষমতা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। এ সময়ে তুলনামূলক ভারী খাবার সহজে হজম হয়।
কিন্তু অনেকেই কাজের ব্যস্ততায় দুপুরের খাবার দেরিতে খান। এতে খাবার হজমে বেশি সময় লাগে এবং পেট ভার, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা জানান, রাতে শরীরের হজমক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে। তাই রাত ৯টা বা ১০টার দিকে ভারী খাবার খেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লে বদহজমের ঝুঁকি বাড়ে।
খাবার ঠিকমতো হজম না হলে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
দ্রুত খাবার খেলে বাড়তে পারে সমস্যা চিকিৎসকদের মতে, খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে না খেলে পাকস্থলীর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। দ্রুত খাবার গিলে ফেললে খাবারের সঙ্গে বাতাসও পেটে ঢুকে যায়, যাকে ‘এয়ারোফেজিয়া’ বলা হয়। এতে ঢেকুর, পেট ফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যা বাড়তে পারে।
তাই প্রতিটি খাবার ধীরে ধীরে ও ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাতে কাঁচা খাবারে সতর্কতা যাদের গ্যাস বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের রাতে কাঁচা সালাদ বা সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কারণ কাঁচা সবজি হজমে বেশি সময় লাগে। এর বদলে ভাপানো বা সেদ্ধ সবজি খেলে হজম সহজ হয়।
খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া ঠিক নয় খাওয়ার পর অনেকেই শুয়ে মোবাইল ব্যবহার করেন বা বিশ্রাম নেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি হজমের জন্য ক্ষতিকর। খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম ভালো হয় এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমে।
ঠান্ডা পানির বদলে স্বাভাবিক পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের সময় বা খাওয়ার পরপরই খুব ঠান্ডা পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে। তাই স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা হালকা গরম পানি পান করা বেশি উপকারী।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পেটের সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে সময়মতো খাবার খাওয়া, ধীরে চিবিয়ে খাওয়া, রাতের খাবারে সংযম এবং খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটির মতো সাধারণ অভ্যাস বদলালেই অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমে যেতে পারে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











