ব্যস্ত জীবন আর কাজের চাপে আমরা প্রায়ই শরীরের ছোটখাটো সমস্যাকে অবহেলা করি। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি আপনার শরীর সারাক্ষণ অবসন্ন লাগে কিংবা রাতে ঠিকমতো ঘুম না আসে, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি থাকতে পারে। আধুনিক জীবনযাত্রায় রোদ কম লাগানো এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অভাবে অনেকেই এই নীরব সমস্যায় ভুগছেন।
ভিটামিন ডি-র ঘাটতি বোঝার ৫টি লক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ভিটামিন ডি কমে গেলে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন:
একনাগাড়ে ক্লান্তি: যথেষ্ট বিশ্রাম আর ঘুমের পরেও শরীর সারাক্ষণ ম্যাজমেজে বা অবসন্ন লাগে।
পেশি ও হাড়ের ব্যথা: কোনো আঘাত ছাড়াই উরু, কোমর কিংবা হাড়ের গাঁটে ব্যথা হওয়া এবং শরীর নাড়াচাড়া করতে কষ্ট হওয়া।
মানসিক অস্থিরতা: অকারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, কাজে উৎসাহ না পাওয়া কিংবা মাঝেমধ্যে অবসাদ বোধ করা।
ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে সামান্য সর্দি-কাশিতেও আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত চুল পড়া: চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ, এর অভাবে অস্বাভাবিক হারে চুল পড়তে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন?
ভিটামিন ডি-র ঘাটতি যে কারো হতে পারে, তবে কিছু মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকেন:
১. যারা দিনের অধিকাংশ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন বা রোদ লাগে না।
২. বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্তঃসত্ত্বা নারী।
৩. যাদের খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব রয়েছে।
মুক্তির উপায় ও প্রতিকার আপনার শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের পরামর্শে একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা করে নিতে পারেন। এছাড়া সুস্থ থাকতে নিচের অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন:
সূর্যালোক: প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট শরীরের কিছু অংশে রোদ লাগান। সকালের মিষ্টি রোদ ভিটামিন ডি তৈরির সবচেয়ে বড় উৎস।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস: খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম, মাশরুম এবং দুগ্ধজাত খাবার রাখুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ: অভাব বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।
স্বাস্থ্যের সামান্য সচেতনতাই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে।











