নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রতিদিন ২ শতাধিক রোজাদার আসে ইফতার করার জন্য। শুধু এ বছরই নয়, বেশ কয়েক বছর যাবত ব্যক্তিগত উদ্যোগে একজন ব্যবসায়ী এই আয়োজন করে থাকেন। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল এলাকায় অসহায় মানুষ ও পথচারী মানুষের জন্য প্রতিদিন ইফতারের আয়োজন করে থাকেন স্থানীয় ব্যবসায়ী বাদল মিয়া।
ছিন্নমূল মানুষ, শ্রমজীবী, পথচারী ও রিকশা-সিএনজি চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ইফতারে অংশ নেন। তার এই মানবিক উদ্যোগ সমাজে সুফল বয়ে আনবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশ্লেষকেরা।
জানা যায়, প্রায় ৪/৫ বছর যাবত প্রথম রমজান শুরু করে শেষ রোজা পর্যন্ত কাশিল বাজারে বাদল মিয়ার অফিসে প্রতিদিন নিজস্ব লোকজন দিয়ে দুপুরের পর থেকে চলে ইফতার তৈরির আয়োজন। আর অন্যান্য সামগ্রী যেমন খেজুর, শসা, শরবত তৈরীর সামগ্রী, বোতলজাত পানিসহ ফলমূল নিজে হাতেই ক্রয় করেন বাদল মিয়া।
স্থানীয়রা জানান, ইফতারে ছোলা, মুড়ি, খেজুর, ফল, জিলাপি ও পানি দেওয়া হয়। অনেকের জন্য এটি রমজানে নিয়মিত ইফতার পাওয়ার একটি বড় সহায়তা হয়ে উঠেছে।
ইফতারে অংশ নেওয়া রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, “সারাদিন রিকশা চালিয়ে অনেক সময় ঠিকমতো ইফতার জোটে না। বাদল ভাইয়ের এই আয়োজন আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”
আরেক অংশগ্রহণকারী পথচারী রহিমা বেগম বলেন, “আমি কাজের খোঁজে সখিপুর থেকে শহরে আসি। বাড়ি ফেরার সময় অনেক সময় ইফতার কেনার সামর্থ্য থাকে না। এখানে এসে সবার সঙ্গে ইফতার করতে পারি, খুব ভালো লাগে।”

স্থানীয় যুবক মেহের আলী বলেন, এই আয়োজন প্রমাণ করে, তিনি শুধু ব্যবসা করেন না, মানুষের পাশেও দাঁড়ান। রমজানজুড়ে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
সিএনজি চালক রফিক বলেন, আমি বাসাইল রোডে সিএনজি চালাই। আমি দুইদিন এখানে ইফতার করেছি, যাত্রীরাও করেছে। তিনি বলেন, সমাজের অনেকেরই ধন আছে, কিন্তু এই ধরনের মানসিকতা সবার নাই।
ইফতার আয়োজনে বাদল মিয়ার সবচেয়ে বড় সহযোগী জমির উদ্দিন জমাদার (পিন্টু) বলেন, প্রতিবছর এই আয়োজন করেন বাদল মিয়া। শুধু রমজান মাসে ইফতারের মধ্য দিয়ে নয়, তিনি সারা বছরই এলাকার মানুষকে সবসময় সার্বিকভাবেই সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন।
আয়োজক বাদল মিয়া বলেন, রমজান মাসে অসহায় মানুষের সঙ্গে ইফতার ভাগাভাগি করার ইচ্ছা থেকেই এই আয়োজন করেছি। যতদিন পারি মানুষের পাশে থাকতে চাই। বিগত সময়ে যতটুকু করেছি, আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত রেখে আরো বেশি সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।
এদিকে এলাকাবাসী মনে করছেন, সমাজের বিত্তবানরা যদি এভাবে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন, তাহলে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।











