অলক কুমার :
বেকারত্ব দূরীকরণ ও শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। আর সেই আয়োজনে ২০২৭ জন বেকারের ভাগ্য খুলেছে। তারা চাকরি নামের সোনার হরিণটি ধরতে পরেছে টাঙ্গাইল জব ফেয়ারের মাধ্যমে।
জানা যায়, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী জব ফেয়ারে তাৎক্ষণিকভাবে ৪৪৬ জনের চাকরি নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি বাছাই করা আরও ১ হাজার ৫৮১ জনের চাকরি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। ফলে মেলার মাধ্যমে মোট ২ হাজার ২৭ জন চাকরিপ্রার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জনসেবা চত্বরে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এসময় জব ফেয়ারে চাকরি পাওয়া কয়েকজন তরুণ-তরুণীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ জব ফেয়ারে জেলার শীর্ষস্থানীয় এনজিও, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৫১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অনলাইন ও অফলাইনে সিভি সংগ্রহের পাশাপাশি মেলায় সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জব ফেয়ারে অনলাইন ও অফলাইনে সর্বমোট ১১ হাজার ৪২৭ জন চাকরিপ্রার্থী নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ৪৪৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাছাই করা আরও ১ হাজার ৫৮১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। সব মিলিয়ে এ জব ফেয়ারের মাধ্যমে ২ হাজার ২৭ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী টুকু যা বলেন –
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এটা প্রাথমিকভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। বেশ সাড়া ফেলেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটি আরও বড় পরিসরে কীভাবে করা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনের আগেও বলেছি, টাঙ্গাইলের একজন শিক্ষিত যুবকও যাতে বেকার না থাকে, আমি সেই অনুযায়ী কাজ করব।’
জব ফেয়ারের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একজন শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ যাতে বেকার না থাকে এবং শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার পর প্রত্যেকে যাতে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগ পায়, সে পরিবেশ ও ক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
চাকরি না পাওয়া প্রার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘আজকে যাদের চাকরি হলো না, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তাদের সিভি জমা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের জব ফেয়ার সারাদেশে আয়োজন করা হলে চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটতে হবে না। একই জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
জেলা প্রশাসক যা জানান –
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, চাকরি করতে আগ্রহী অনেক শিক্ষিত মানুষ বিভিন্ন সময়ে তার কাছে কর্মসংস্থানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি জব ফেয়ার আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখান। পরবর্তীতে তার পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, জব ফেয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে পেরেছে। এতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন উৎসাহ সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জব ফেয়ার আয়োজন করা হবে।










