খবর বাংলা ডেস্ক :
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আজ সই করবেন বিচারক। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিচারকের স্বাক্ষর শেষে আইনানুযায়ী মামলার ডেথ রেফারেন্সের যাবতীয় নথি উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) পাঠানো হবে। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৪ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন ও কনডেম সেলে আসামিরা এর আগে গত রবিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সবশেষ সোমবার সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে কারাগারের কনডেম সেলে নেওয়া হয়েছে। মাত্র ৪ কার্যদিবসের মধ্যে এই ঐতিহাসিক মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে হত্যার আগে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখম করার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় প্রমাণিত হয় যে, আসামি সোহেল রানা স্বেচ্ছায় অপরাধ স্বীকার করেছেন। আর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার স্বামীকে পালাতে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন।
যেভাবে ঘটেছিল সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে কৌশলে তাকে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন প্রতিবেশী স্বপ্না। পরবর্তীতে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে তার মা সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান।
অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মাথাবিহীন রক্তাক্ত দেহ এবং একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ও মামলা: ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। তবে সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালালেও পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গত ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন রামিসার বাবা।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











