খবরবাংলা ডেস্ক :
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতি হলেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়াতে চায় না সরকার। এমন আশাবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম।
তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেল আমদানি, মূল্য পরিশোধ ও মজুদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। জ্বালানি সংগ্রহে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি দেশের বাজারে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও মাসের শেষ দিকে এসে নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়।
বিপিসি চেয়ারম্যানের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও দেশের জ্বালানি সরবরাহ বিবেচনায় কয়েক দিন অপেক্ষা করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তাই দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে এবং নতুন দামের ফলে পাওয়া অর্থ দিয়ে জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশাবাদ বিপিসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধের বিষয়েও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্বস্তিদায়ক অবস্থানে পৌঁছানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার দাবি, দেশে স্বাভাবিকভাবে প্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুদ রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ৯০ দিনের মজুদ সক্ষমতা গড়ে তুলতে স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় রফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। জ্বালানি কেনাকাটা চ্যালেঞ্জিং হলেও সরবরাহে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য বিপিসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় বাড়ছে আমদানি উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার অতিরিক্ত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগও নিয়েছে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। এসব জ্বালানি সরকারি পর্যায়ের চুক্তির (G2G) মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
ভবিষ্যতে দাম কমানোর সম্ভাবনাও দেখছে বিপিসি রফিকুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কিছুটা বাড়লেও যেন দেশের বাজারে নতুন করে দাম সমন্বয় করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে বিপিসি।
তার ভাষ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপ পর্যায়ে গেলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে হয়তো দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আর বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে দাম কমানোর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের গতিপথ এখনো অনিশ্চিত। ফলে আগামী দিনগুলোতে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজার—সবকিছুর ওপর দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নির্ভর করবে।











