নিজস্ব প্রতিবেদক :
টাঙ্গাইলের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় ছোট ভাই সানিয়াত খান বাপ্পার ফাঁসির রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁর বড় ভাই সাবেক সংসদ সদস্য (ঘাটাইল-৩) আমানুর রহমান খান রানা। এই রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ফরমায়েশি’ আখ্যা দিয়ে তিনি রাজপথে এর রাজনৈতিক সমাধানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত বাপ্পাসহ মূল আসামিরা পলাতক ছিলেন।
রায়ের পরপরই এক বিবৃতিতে সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইলবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ২০১৩ সালে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের মূল এজাহারে তাঁর ছোট ভাই সানিয়াত খান বাপ্পার নাম ছিল না।
আমানুর রহমান রানা বলেন, “২০১৪ সালে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের আদর্শিক শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো দুর্বল করার জাতীয় ষড়যন্ত্র শুরু হয়। টাঙ্গাইলের স্থানীয় রাজনীতির একটি কালো শক্তির যোগসাজশে আমাদের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের ওপর কৃত্রিম প্রলয় তৈরি করা হয়। সেই মিথ্যা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ওই বছরের সেপ্টেম্বরেই বাপ্পা সুদূর বেলজিয়ামে পাড়ি জমায়।”
সাবেক এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, দেশত্যাগের পর ‘ষড়যন্ত্রের নতুন আখ্যান’ তৈরি করে এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও সানিয়াত খান বাপ্পাকে ১ নম্বর আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
ছোট ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে রানা বলেন, “সরকারি সা’দত কলেজের সাবেক ভিপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা ছিলেন টাঙ্গাইলের তরুণ প্রজন্মের আইকন। যখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাঁকে টাঙ্গাইলের আগামীর নির্ভরযোগ্য কাণ্ডারী হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন, ঠিক তখনই এই রায় দেওয়া হলো।”
আদালতের রায়কে ‘ক্যাঙারু কোর্টের মিথ্যা ও হলুদ কলমের রায়’ বলে আখ্যায়িত করেন আমানুর রহমান রানা। দেশের আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রিয় দেশবাসীর কাছে তিনি জানতে চান, এই ধরনের রায় কতটা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
বিবৃতির শেষাংশে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কবিতার উক্তি টেনে তিনি বলেন, “পরাজয়ে ডরে না বীর। সকল ষড়যন্ত্রের সমাধান হবে রাজপথে, ইনশাআল্লাহ।”
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।











