খবরবাংলা ডেস্ক :
সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সামরিক সদস্যরা সৌদি আরবে বিভিন্ন সক্ষমতা ও ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে পাকিস্তানি বাহিনীর উপস্থিতির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। চৌধুরী সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে রয়েছে এবং দেশটিতে তারা কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছে।
গত ৫ অক্টোবর রিয়াদে মক্কা অ্যালায়েন্স ফর ডিফেন্সের কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা কীভাবে কার্যকর করা হবে, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়।
এরপর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে নির্ধারিত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনে সম্মত হয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের কোনো একটি সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বর্তমানে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যেই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে তিন দেশের তৎপরতা বাড়িয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছেন, সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতি একেবারে নতুন কোনো বিষয় নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সামরিক সদস্যরা কয়েক দশক ধরে সৌদি আরবে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে তুরস্কও সৌদি আরবকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন পরিচালনা ও লজিস্টিক সহায়তার মতো বিষয় রয়েছে।
তিন দেশের সামরিক সহযোগিতা দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন আহমেদ শরীফ চৌধুরী। তাঁর মতে, মক্কা প্রতিরক্ষা জোট হঠাৎ করে তৈরি হয়নি; বরং পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এটি গড়ে উঠেছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











