খবরবাংলা ডেস্ক :
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। এ ঘটনার পর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
হুতিরা এ হামলার দায় স্বীকার না করলেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার জন্য গোষ্ঠীটিকে দায়ী করেছে। বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলাকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হুতিদের বিরুদ্ধে হামলায় আমরা যোগ দিতে পারি। বিষয়টি পর্যালোচনা করব। আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেব।’
তিনি আরও বলেন, সৌদি বাহিনী ভালো যোদ্ধা। তবে তাঁর মতে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাটি ছিল ভয়াবহ।
এদিকে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলাসহ সৌদি আরবে হুতিদের সব ধরনের হামলার নিন্দা জানায় ওয়াশিংটন।
রুবিও বলেন, এসব নিন্দনীয় হামলা নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, বেসামরিক বিমানবন্দরে এ ধরনের হামলা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধের শামিল। রবিবার এক বিবৃতিতে জোটটি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
সৌদি ভূখণ্ডে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এ ঘটনা। এতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হওয়ায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যে স্থানীয় সময় শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সৌদি আরবের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ইঙ্গিত দিলেও হামলার জবাবে ওয়াশিংটন ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্ত হলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











