খবর বাংলা ডেস্ক :
বাংলাদেশে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় পর আবার নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। বিকেলে একই প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি অতিথিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ ভবন নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী ২৯৭টি ঘোষিত আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে বসতে যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। আদালতের নির্দেশে দুটি আসনের ফল স্থগিত রয়েছে এবং একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে একটি আসনে ভোট হয়নি।
এই নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ভোট গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে সংস্কার কমিশন গঠন, রাজনৈতিক সংলাপ এবং যৌথ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের পথ সুগম হয়। নির্ধারিত সময়েই ভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আসন নিশ্চিত করে।
দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নেন এবং জয়লাভ করেন। আজ তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন, যা দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার আকার, তরুণ নেতৃত্বের অংশগ্রহণ এবং জোটসঙ্গীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও মন্ত্রিসভা তুলনামূলক ছোট এবং ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
তথ্য সূত্র : কালের কণ্ঠ











