মাসুদ রানা
,
বাসাইল প্রতিনিধি:
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, আমাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার, প্রত্যেকটা ইউনিয়নে, প্রত্যেকটা স্কুলে একটি করে মাঠ এবং স্কুলের বাইরে প্রত্যেকটা ইউনিয়নে একটি করে মাঠ করবার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রত্যেকটা ইউনিয়নে এবং প্রত্যেকটা স্কুলে—যাতে করে ছেলেরা, মেয়েরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে, লেখাপড়া ও খেলাধুলা—তাহলে কিন্তু নেশা তাদেরকে স্পর্শ করবে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইলে এসএসসি/দাখিল/সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত, জুনিয়র/সমমান ও প্রাথমিক/সমমান বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমার দেশটা গরিব। এই গরিব দেশের মধ্য থেকেই ১৮ বছরে প্রায় ৪০ লাখ কোটি টাকা লুট করে এই দেশটাকে আরও হরিভঙ্কুর করে দিয়েছে; সেজন্যে আপনাদেরকে আমরা যথাযথ বেতন দিতে পারি না। তারপরেও যেটুকু পারি অন্তত বেতন তো পান, অন্তত ঘি-ভাত না হলেও ডাল-ভাত তো খান। আপনার দায়িত্ব, আপনার কর্তব্য—এই যে স্কুলে শিক্ষকতা করেন, যে কলেজে শিক্ষকতা করেন, ওই কলেজ এবং স্কুলকে অনেক উন্নত করা, লেখাপড়ার মানকে এমন উন্নত করা যাতে করে একটা বাসাইলের ছাত্রছাত্রী টাঙ্গাইলে না যান, বরং টাঙ্গাইলের ছাত্রছাত্রীরা মনে করে বাসাইলের স্কুল-কলেজ ভালো, বাসাইলেই যাই—সেই অবস্থা তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বাসাইলের একটা সন্তান যেন বখাটে না হয়, বাসাইলে যেন কোনো কিশোর গ্যাং তৈরি না হয়। ওসি সাহেব আছেন, আমি আপনাকে বলব, বাসাইলে যেন কোনো কিশোর গ্যাং বা ছিনতাইকারী গ্যাং তৈরি না হয়। বাসাইলে যেন কোনো রকমের চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি সংঘটিত না হয়। আপনি আছেন, সার্কেল এসপি সাহেব আছেন, দুষ্টের দমনে কঠোর হবেন–আমি কঠোর থাকবো। যে খারাপ সে আমার ভাই-আত্মীয় ও বন্ধু-প্রতিবেশী হোক আমি তাকে চিনি না, তার প্রতি প্রশাসন নিষ্ঠুর হবেন। তেমনি সৃষ্টের পালনে নরম হবেন, বাসাইলবাসীকে ভালোবাসবেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এই বাসাইলটাকে গড়ে তুলতে হবে। বাসাইলটা বড় বঞ্চিত এলাকা। এই এলাকাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যে, বাসাইলের প্রত্যেকটা স্কুল, প্রত্যেকটা কলেজ, মাদ্রাসা, প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যেন বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। সেই চেষ্টা করিতে হবে। চেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। বাসাইলে কোনো চাঁদাবাজি থাকবে না, কোনো দখলবাজি থাকবে না, কোনো অন্যায় থাকবে না; কেউ কাউকে কোনো ধরনের অনৈতিকতায় ফাঁকি দেবে না। আসুন, আমরা সকলে মিলে একটা মেধার বাসাইল গড়ে তুলি। সকলে মিলে একটা মেধাবী বাসাইলের সাথে সাথে একটা উন্নত বাসাইল গড়ে তুলি।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন— ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপন, বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আয়ুব মিয়া, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হীরা মিয়া, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ মোল্লা, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কৃতিছাত্রছাত্রীরা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে ১৬২ কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা সনদ, মেধা ক্রেস্ট, কলেজ ব্যাগসহ নানা উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়











