কালিহাতী সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের মোদক সম্প্রদায়ের হাতেভাজা মুড়ির সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে। পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে মুড়ির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সারা বছর মুড়ির বাজার থাকলেও রোজার সময় উৎপাদন ও বিক্রি বাড়ায় কারিগর ও ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করেন।
নারান্দিয়া থেকে টাঙ্গাইলসহ দেশের অন্তত আট জেলায় মুড়ি সরবরাহ করা হয়। হাতে ভাজা ও মেশিনে উৎপাদিত—দুইভাবেই মুড়ি তৈরি হলেও হাতেভাজা মুড়ির আলাদা কদর রয়েছে। ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার, বিশেষ করে মোদক সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এ পেশায় যুক্ত। নারান্দিয়া ছাড়াও মাইস্তা, নগরবাড়ী, দৌলতপুর, লুহুরিয়া ও সিংহটিয়াসহ প্রায় ১৫টি গ্রামের কয়েকশ পরিবার এ কুটিরশিল্পের সঙ্গে জড়িত।
কারিগরদের তথ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি দিনে এক থেকে দেড় মণ চালের মুড়ি ভাজতে পারেন। প্রতি মণ চালে ২২ থেকে ২৩ কেজি মুড়ি পাওয়া যায়। বর্তমানে পাইকারি প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচামাল ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে গেছে বলে জানান কারিগররা।
দৌলতপুর গ্রামের রাধা রানী মোদক বলেন, ধান সিদ্ধ, শুকানো, মাড়াই এবং পরে লবণজল মিশিয়ে আগুনে ভাজা—সব মিলিয়ে অনেক পরিশ্রমের কাজ এটি। কিন্তু পরিশ্রমের তুলনায় লাভ কম। অধীর মোদক জানান, এক মণ ধান ভাজতে খড়ি, লবণ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়। সব খরচ বাদে লাভ সীমিত। কনিকা রাণী মোদক ও সুরেন্দ্র কুমার বর্মনও সরকারি সহায়তার দাবি জানান।
প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ টাকার হাতেভাজা মুড়ি উৎপাদন ও কেনাবেচা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে লাভের বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে। রমজানে দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা এসে বস্তাভর্তি মুড়ি কিনে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, বগুড়া ও গাজীপুরে নিয়মিত মুড়ি পাঠানো হয়।
মেশিনে উৎপাদিত মুড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছেন হাতেভাজা মুড়ির কারিগররা। মেশিনে দ্রুত উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় লাভ তুলনামূলক বেশি। তবে কিছু ক্রেতা রাসায়নিকমুক্ত ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদের কারণে হাতেভাজা মুড়িকেই প্রাধান্য দেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, যথাযথ বাজার ব্যবস্থাপনা ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা পেলে এ কুটিরশিল্প আরও এগিয়ে যেতে পারে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, নারান্দিয়ার হাতেভাজা মুড়ির সুনাম রয়েছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রান্তিক মানুষদের তালিকা করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্র্যান্ডিং ও প্রচার বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।











