খবরবাংলা ডেস্ক :
একই জায়গায় বসে থাকা কয়েকজন মানুষের মধ্যে একজনকে মশা বারবার কামড়ালেও পাশে থাকা অন্যজনকে প্রায় ছুঁয়েও দেখে না—এমন দৃশ্য খুবই পরিচিত। বিষয়টি কেবল কাকতালীয় নয়, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষকে শনাক্ত করতে মশা সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), শরীরের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং ত্বক থেকে নির্গত বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের ওপর।
কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভূমিকা মানুষের নিঃশ্বাস ও ত্বক থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড মশাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে। প্রায় ১০ মিটার (৩৩ ফুট) দূর থেকেও মশা তাদের বিশেষ রিসেপ্টরের মাধ্যমে এই গ্যাস শনাক্ত করতে পারে।
এ কারণেই শিশুদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের বেশি কামড়ায় মশা, কারণ তাদের শরীর থেকে তুলনামূলক বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, শুধু স্ত্রী মশাই মানুষকে কামড়ায়, কারণ ডিম উৎপাদনের জন্য তাদের রক্তের প্রয়োজন হয়। পুরুষ মশা ফুলের রেণু ও মধু খেয়ে বেঁচে থাকে।
শরীরের তাপ ও ঘামও আকর্ষণের কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা যত বেশি থাকে, মশার আকর্ষণও তত বাড়ে। তাই গর্ভবতী নারী, অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তি কিংবা ব্যায়ামের পর ঘর্মাক্ত মানুষের প্রতি মশা তুলনামূলক বেশি আকৃষ্ট হয়।
শরীরের গন্ধ ও ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য কীটতত্ত্বের অধ্যাপক স্টিভ লিন্ডসের মতে, মানুষের শরীরে থাকা অ্যামোনিয়া, ল্যাকটিক অ্যাসিড ও কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের মতো রাসায়নিক পদার্থ মশাকে আকৃষ্ট করে। যাদের শরীরে এসব উপাদানের মাত্রা বেশি, তাদের মশা বেশি কামড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়।
এছাড়া মানুষের ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়ার ধরন ও পরিমাণের পার্থক্যের কারণে শরীরের গন্ধও ভিন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বংশগত বা জিনগত কারণেও কারও প্রতি মশার আকর্ষণ বেশি হতে পারে।
মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি মশা শুধু বিরক্তির কারণ নয়, এটি বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগও ছড়িয়ে থাকে। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া, এডিস মশা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ইয়েলো ফিভার এবং কিউলেক্স মশা ফাইলেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৩১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
যেভাবে কমাবেন মশার উপদ্রব বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং ফুলের টব, ড্রাম, বালতি বা অন্য কোনো পাত্রে যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মশারি, মশা নিরোধক স্প্রে বা রিপেলেন্ট ব্যবহার করলে মশার কামড় থেকে অনেকটাই সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











