খবরবাংলা ডেস্ক :
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ফের চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে চার দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন গাজী নজরুলকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল জানিয়েছেন, মরিয়ম আবেগপ্রবণ ছিলেন এবং পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে আত্মহত্যা করেছেন। মামলার প্রকৃত ঘটনা ও ‘মূল রহস্য’ উদঘাটনে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পুলিশি পাহারায় গাজী নজরুলকে আদালতে নেওয়া হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমানসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, গাজী নজরুল হৃদরোগে আক্রান্ত এবং তার রিং পরানো রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ন্যাম ভবনে থাকায় পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আগের চার দিনের রিমান্ডেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি দাবি করে তারা জামিন চান।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এরপর ২১ সেপ্টেম্বর আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন রাতে মামলার তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে মামলায় গ্রেপ্তার মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা তদন্তাধীন। আদালতের রিমান্ড আদেশও আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমান নয়।










