সখিপুর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় স্থানীয় কয়েকজনের নির্মাণ করা প্রায় ৬০ হাত দীর্ঘ একটি টিনের ঘর ভেঙে দিয়েছে বন বিভাগ। জমিটির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হলুদিয়া চালা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যে জমিতে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটি ১৯৬২ সালের রেকর্ড অব রাইটস (আরওআর) রেকর্ডভুক্ত। পরে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তারা ওই জমির মালিকানা পেয়েছেন। তবে বন বিভাগের দাবি, উপজেলার বগা মৌজার সিএস খতিয়ানের ৪৫ নম্বর দাগের ওই জমি সংরক্ষিত বনভূমির অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সখীপুর-বহেড়াতৈল সড়কের হলুদিয়া চালা বাজারের ওই জমিতে আগে দুটি পুরোনো দোকানঘর ছিল। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ বেগম চায়ের দোকান চালাতেন। দোকানঘর দুটি নড়বড়ে হয়ে পড়ায় সম্প্রতি পুরোনো ঘর ভেঙে সেখানে নতুন করে টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়। পরে রোববার সকালে বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে ঘরটি ভেঙে দেয়।
জমির একাংশের মালিক দাবিদার আব্দুল আজিজ বলেন, ১৯৬২ সালের আরওআর রেকর্ডভুক্ত জমিটি তারা ছয়জন মিলে কিনেছেন। জমির মূল মালিকের নামে রেজিস্ট্রি দলিলও রয়েছে। তাঁর দাবি, সপ্তাহখানেক আগে ওই জমিতে ঘর নির্মাণের সময় বন বিভাগ কোনো বাধা দেয়নি। তবে রোববার সকালে কোনো নোটিশ ছাড়াই ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
চা দোকানি শাহনাজ বেগম বলেন, ওই জায়গায় তাঁর পুরোনো চায়ের দোকান ছিল। ঘরটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি পড়ত। তাই তিনি ঘরটি মেরামত করেছিলেন। চার সন্তান নিয়ে এই চায়ের দোকানের আয়েই তাঁর সংসার চলে বলে জানান তিনি।
তবে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী বলেন, জমিটি স্পষ্টতই সংরক্ষিত বনভূমির অন্তর্ভুক্ত। এটি উপজেলার বগা মৌজার সিএস দাগ নম্বর ৪৫-এর জমি। তাঁর দাবি, স্থানীয় কয়েকজন বন বিভাগকে না জানিয়ে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করেছিলেন। খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেবের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ঘরটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এদিকে, সখীপুরের বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ১৯৮২ সালের আটিয়া বন অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে এসব জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনাও রয়েছে।











