আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী লাবীব গ্রæপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের বিরুদ্ধে দ্রæত বিচার আইনে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারী ২৬) মির্জাপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী দাবি করা উপজেলার ভানুয়াবহ গ্রামের হাছান আলীর ছেলে মো. সুজন মিয়া (৩২) বাদী হয়ে টাঙ্গাইল দ্রæত বিচার ট্রাইবুনালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খানের আদালতে হাজির হয়ে আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রæত বিচার) আইন ২০০২ এর ৪/৫ ধারা অনুযায়ী মামলার আবেদন করেন। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা (মির্জাপুর) এর অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগকারী কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগটি এফ আই আর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।
মামলায় বাসাইল-সখিপুর আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে আট নম্বর আসামি করে ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও একশত পঞ্চাশ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভকে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তাহারিম হোসেন সীমান্ত, এমপি শুভ’র ব্যক্তিগত সহকারী মীর আসিফ অনিক, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ (পশ্চিম) সভাপতি হাজী হুমায়ূন কবির, ছাত্রলীগ সদস্য খান আহমেদ জয়নাল।
মামলার বিবরনে আট নম্বর আসামি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং ঢাকা দক্ষিনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক পার্টনার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন নিপীড়নের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে উল্লেখিত নামের আসামীরাসহ অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জন সন্ত্রাসী লাঠি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, পিস্তল, সর্টগান, রিভল বার নিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে আহত করে। এতে বাদী সুজন মিয়া আহত হয়। এ ঘটনায় তিনি টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে এই মামলা করেন।
এ বিষয়ে সখিপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, সালাউদ্দিন আলমগীরের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখার জন্য একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিবেন।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, মামলার বাদী মো. সুজন মিয়া প্রকৃতপক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো নেতা নন; তিনি মির্জাপুরের গোড়াই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক।”
তিনি অভিযোগ করেন, “যারা এতো দিন নির্যাতিত হতো তারা এখন দলীয় প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে নির্যাতনকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো প্রার্থীকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মামলা একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক। নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। আমার ব্যবসা মূলত এক্সপোর্ট ও ব্যাংকিং খাতে। আর ব্যাংকে পার্টনারশিপ নয়, শেয়ারহোল্ডারশিপ থাকে। যেকোনো ব্যক্তি শেয়ার কিনে শেয়ার হোল্ডার হতে পারে। ব্যাংক একটি প্রতিষ্ঠান, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়। আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যা সম্পূর্ণ অসত্য।”
এ বিষয়ে মামলার বাদী সুজন মিয়ার সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকার ফোন করা হলেও তিনি তা রিভিস করেননি।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মালার বিষয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি, তবে নথি এখনও হাতে পাইনি।











