খবরবাংলা ডেস্ক :
শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট বা গাঁটে ব্যথা হলে অনেকেই একে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক লক্ষণ মনে করেন। কেউ কেউ আবার ভাবেন, বিশ্রাম নিলেই ব্যথা কমে যাবে। তবে দীর্ঘদিন ব্যথা থাকা, বারবার ফিরে আসা কিংবা ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
ভারতীয় অর্থোপেডিক সার্জন ডা. পুস্কর চাওলার মতে, দীর্ঘস্থায়ী গাঁটের ব্যথা অস্টিওআর্থ্রাইটিস, প্রদাহজনিত সমস্যা, পুরোনো আঘাত, পেশির দুর্বলতা কিংবা জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপের লক্ষণ হতে পারে। তাই ব্যথার ধরন ও স্থায়িত্বের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, জীবনযাপনে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে জয়েন্টের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং স্বাভাবিক চলাফেরা সহজ করতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
১. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন জয়েন্ট সুস্থ রাখতে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এমন ব্যায়াম বেছে নেওয়া উচিত, যাতে গাঁটের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
হাঁটাচলা, সাঁতার, সাইকেল চালানো, শরীর প্রসারিত করার ব্যায়াম এবং পেশি শক্তিশালী করার অনুশীলন উপকারী হতে পারে। আগে থেকেই ব্যথা থাকলে ব্যায়ামের সময় ও তীব্রতা হঠাৎ বাড়ানো উচিত নয়। ধীরে ধীরে শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম বাড়ানো ভালো।
২. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন শরীরের অতিরিক্ত ওজন হাঁটু, কোমর ও গোড়ালির জয়েন্টে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন এ চাপ থাকলে ব্যথা ও চলাফেরায় অসুবিধা বাড়তে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করা প্রয়োজন। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখলে পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পাওয়া যায়।
৩. বসা ও দাঁড়ানোর ভঙ্গি ঠিক রাখুন দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা কিংবা ভুলভাবে ভারী জিনিস তোলার অভ্যাস শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে অপ্রয়োজনীয় চাপ ফেলতে পারে।
কাজের ফাঁকে বিরতি নিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটুন বা শরীর প্রসারিত করুন। ভারী জিনিস তোলার সময় সঠিক কৌশল অনুসরণ করুন। পাশাপাশি পায়ের জন্য আরামদায়ক ও পর্যাপ্ত সাপোর্ট দেয় এমন জুতা ব্যবহার করুন। এসব অভ্যাস হাঁটু, গোড়ালি ও পায়ের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন জয়েন্টের সুস্থতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের ঘাটতি ব্যথার অনুভূতি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অস্বস্তি সামলানো কঠিন করে তুলতে পারে।
ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের পর শরীরকে পুনরুদ্ধারের জন্য সময় দিন। তীব্র ব্যথা থাকা অবস্থায় জোর করে ব্যায়াম বা পরিশ্রম চালিয়ে যাবেন না। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? গাঁটের ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা ক্রমেই বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া, গরম অনুভূত হওয়া বা জ্বরের সঙ্গে ব্যথা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, সব গাঁটের ব্যথা বয়সজনিত নয়। কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জয়েন্টের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।











