টাঙ্গাইল সদর সংবাদ দাতা
টাঙ্গাইলের বিভিন্ন বাজারে কিছু নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি মিললেও কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবু ও শসার দাম কিছুটা কমলেও ব্রয়লার মুরগি এবং বিভিন্ন মসলার দাম বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। শনিবার (৭ মার্চ) টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে মাছ, সবজি ও গরুর মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা কমে বর্তমানে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও কেজিপ্রতি প্রায় ২০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রোজার প্রথম সপ্তাহে ইফতারে শরবত তৈরিতে লেবুর চাহিদা বেশি থাকায় এবং সালাদের উপকরণ হিসেবে শসার ব্যবহার বাড়ায় এ দুই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। সে সময় মানভেদে প্রতি হালি লেবু ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। গত সপ্তাহেও প্রায় একই দাম ছিল। তবে চলতি সপ্তাহে লেবুর দাম কিছুটা কমে এখন মানভেদে প্রতি হালি ৪০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রোজার শুরুতে প্রতি কেজি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। তবে রোজার মাঝামাঝি সময়ে এসে উল্টো বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম।
টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের সবজি বিক্রেতা মাসুদ করিম বলেন, রোজার শুরুতে লেবু, শসা ও পেঁয়াজের চাহিদা বেশি ছিল। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনে রাখায় এখন চাহিদা কমে গেছে এবং দামও কিছুটা কমেছে। কাঁচাবাজারের বিক্রেতা শফি উদ্দিন জানান, বেশিরভাগ সবজির দাম আগের মতোই রয়েছে, তবে বেগুনের দাম কিছুটা কমেছে।
এদিকে বছরের শুরুতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। পরে তা বেড়ে ২০০ থেকে ২৩০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। গত সপ্তাহে দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। চলতি সপ্তাহে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতা নুর উদ্দিন বলেন, রোজায় মুরগির দাম ওঠানামা করছে। আমরা কাপ্তান বাজারসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকারিতে মুরগি কিনি। বর্তমানে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। আরেক বিক্রেতা জানান, ঈদের আগে মুরগির দাম আরও বাড়তে পারে, কারণ অনেকেই এখন থেকেই মাছ-মাংস কেনা শুরু করেছেন।
বাজারে চিনি ও সুগন্ধি চালের দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুগন্ধি চালের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি মসলার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। কেজি প্রতি প্রায় ২০০ টাকা বেড়ে আলুবোখারা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকায়। এছাড়া জিরা, কিসমিস ও বিভিন্ন ধরনের বাদামের দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে কয়েকদিন ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। যদিও তেলের দাম বাড়েনি, তবে অনেক দোকানে এক লিটার ও দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। বিক্রেতাদের দাবি, ডিলাররা চাহিদার তুলনায় প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ তেল সরবরাহ করছেন।
এক বিক্রেতা মনোয়ার হোসেন বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরে দাম বাড়ানো হতে পারে। না হলে যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়েও তেলের দাম বাড়ানো হতে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন সরকারকে শুরু থেকেই কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।











