টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোহরা সুলতানা জুঁথির নির্বাচনী দুর্নীতির সংবাদ করায় দুই সাংবাদিককে উকিল নোটিশ প্রেরণ করেছেন। উকিল নোটিশ প্রাপ্ত সাংবাদিকরা হলেন- খবরের কাগজের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জুয়েল রানা ও সময়ের আলো পত্রিকার টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি সুমন কুমার রায়।
নীলফামারীর জজ কোর্টের আইনজীবী শাহ মো. ফারুক হোসেন (সোহাগ) স্বাক্ষরিত এ নোটিশে ওই দুই সাংবাদিককে বিবাদী করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের ঘটনায় নীলফামারী থেকে উকিল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টিকে দূরাভিসন্ধি বলে উল্লেখ করেছেন টাঙ্গাইলের বেশ কয়েকজন আইনজীবী।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খবরের কাগজ অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ইউএনওর বিরুদ্ধে “ভোটের অর্থ লোপাটসহ বিভিন্ন অনিয়ম” সংক্রান্ত যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে ইউএনওর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষন্ন হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইনি নোটিশে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের আগে ইউএনওর বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। নোটিশে বিবাদীপক্ষকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংবাদ সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একই সময়ের মধ্যে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও স্পষ্টীকরণ প্রকাশ করার দাবিও জানানো হয়েছে।
অন্যথায়, বাংলাদেশ দ-বিধি ১৮৬০ অনুযায়ী মানহানির ফৌজদারি মামলা, ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে মামলা এবং আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির জন্য দেওয়ানি মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
সাংবাদিক ও আইনজীবীদের মন্তব্য :
এ বিষয়ে খবরের কাগজের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জুয়েল রানা বলেন, সংবাদ প্রকাশ করার আগে আমি উনার বক্তব্য নিয়েছি। এছাড়া আমার কাছে যথাযথ প্রমাণ রয়েছে। আইনীভাবে লড়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। সত্য সংবাদ প্রকাশ করার জন্য যদি মামলা মুখোমুখি হতে হয়, তার জন্যও সবসময় প্রস্তুত আছি।
এদিকে সময়ের আলো পত্রিকার টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি সুমন কুমার রায় বলেন, সংবাদটি যদি অসত্য হইতো, তাহলে কোন তিনি বিভিন্ন জনকে দিয়ে ফোন করিয়ে সংবাদটি না করার অনুরোধ করিয়েছেন?
টাঙ্গাইলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন। তারা বলছেন- টাঙ্গাইলের ঘটনায় নীলফামারী থেকে উকিল নোটিশ পাঠানোর পেছনে কোন দূরাভিসন্ধি রয়েছে ওই ইউএনও’র। ওই নোটিশের ভাষায় তারা এই মন্তব্যও করেছেন যে, আইনজীবী নোটিশের যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে, ওই আইনজীবী নিজেই ইউএনও অথবা তিনি ঝগড়া কিনে নিয়েছেন।











