খবরবাংলা ডেস্ক :
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের বিক্ষোভ ঘিরে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাজারো পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ। নির্দিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের ডাকে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের পরিকল্পনা, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগ দাবি করা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দিতে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করছেন তাঁরা।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম *দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস*-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাদ পড়া ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে নির্বাচন কমিশন বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকার এই সংশোধন রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে সুবিধা দিতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির বক্তব্য, নির্বাচনে দলটির সাফল্যের পেছনে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূমিকা রয়েছে। পরাজয়ের পর বিরোধীরা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ দলটির।
বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি পুলিশ দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং আগের বিক্ষোভের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগের কারণে শনিবারের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে আয়োজকেরা পুলিশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, বিক্ষোভ করা তাঁদের মৌলিক অধিকার। অনুমতি না পেলেও তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের দিল্লিতে প্রবেশ ও কেন্দ্রীয় এলাকায় সমবেত হওয়া ঠেকাতে দূরপাল্লার কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর প্রদেশসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তথ্য সূত্র : যমুনা টিভি











