খবর বাংলা ডেস্ক :
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই চোখের পলকে হারিয়ে যাওয়ার মতো গোল, গ্যালারি কাঁপানো উত্তেজনা আর মহাতারকাদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। তবে এই জমকালো মঞ্চের আড়ালে থাকে নিয়ম-শৃঙ্খলার এক কঠোর ও নিখুঁত বেড়াজাল। মাঠ এবং মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে থাকে, যা প্রতিটি ফুটবলারকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হয়।
মাঠে ৯০ মিনিটের কড়া নজরদারি মাঠে ফুটবলারদের প্রতিটি আচরণ থাকে রেফারিদের কড়া নজরদারিতে। আবেগের আতিশয্যে গোল উদযাপনের সময় জার্সি খুলে ফেলা, ইচ্ছাকৃতভাবে সময় অপচয় করা কিংবা গ্যালারির দর্শকদের দিকে কোনো উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করলে রেফারি হলুদ কার্ড দেখাতে দ্বিধা করেন না। এমনকি ফাউল না হওয়া সত্ত্বেও ডাইভিং বা অভিনয়ের আশ্রয় নিলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এছাড়া রেফারির সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ বা কটু কথা বললে সরাসরি লাল কার্ডের শাস্তি পেতে হতে পারে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের আগে ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়।
পোশাক ও অলঙ্কারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ফুটবলারদের পোশাক ও ব্যবহৃত সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও ফিফার নিয়ম বেশ কড়া। মাঠে নিরাপত্তার স্বার্থে আংটি, গলার চেইন, হাতঘড়ি বা ব্রেসলেটের মতো অলঙ্কার পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বিশেষ চিকিৎসাজনিত কারণে অনুমতি সাপেক্ষে ফেস মাস্ক বা সুরক্ষামূলক গার্ড ব্যবহার করা যায়। এছাড়া জার্সির ভেতরের গেঞ্জিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত স্লোগান বা বার্তা প্রদর্শন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
মাঠের বাইরে ডোপ টেস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু মাঠের সবুজ ঘাসেই নয়, হোটেল ক্যাম্পে থাকাকালীনও ফুটবলারদের কড়া নজরদারিতে থাকতে হয়। বিশ্বকাপ চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তে ফুটবলারদের ডোপ টেস্টের জন্য ডেকে পাঠানো হতে পারে। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে বা নমুনায় কারচুপির চেষ্টা করলে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
অন্যান্য নিয়ম: বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের স্বাধীনতা থাকলেও সেখানে বর্ণবাদী বা রাজনৈতিক উসকানি ছড়ায়—এমন কোনো পোস্ট করা যাবে না। পাশাপাশি অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়।
মূলত বিশ্বকাপের মতো এত বড় একটি বৈশ্বিক আসরের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং ফেয়ার-প্লে নিশ্চিত করতেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করে থাকে।











